মেইন ম্যেনু

শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রা: বৃষ্টি আর অতিরিক্ত ভাড়ায় দুর্ভোগ

ঈদের আমাদের দ্বারপ্রান্তে। তাই শেষ দিনে ঢাকা ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। সরকারি চাকরিজীবীরা ঢাকা ছেড়েছেন আগেই। সোমবার (৪ জুলাই) থেকে অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছুটি হওয়ায় সোমবার থেকেই বেসরকারি কর্মজীবীরা শেষ মুহূর্তে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন। তাই দুপুরের পর থেকেই বাস টার্মিনাল, ট্রেনস্ট্রেশন, লঞ্চঘাটগুলোতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখন মানুষ ছুটছে গ্রামের বাড়িতে। সকাল থেকেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যাত্রা শুরু হয় তাদের। বৃষ্টির দুর্ভোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ। অন্যন্য সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে শেষ সময়ে যাত্রা করা এসব মানুষদের।

যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে পরিবহন মালিকরা বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করা এসব মানুষদের কাছ থেকে অতিররিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তে হাজার হাজার মানুষের সমাগমে বাস টার্মিনালগুলো পরিপূর্ণ। কিন্তু বাসের সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীদের বেশ কিছুটা সময় নিয়ে যাত্রা করতে দেখা গেছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে অনেককেই ভিজতে হয়েছে গাড়িতে ভ্রমণের আগেই।

গাবতলী আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, দূরবর্তী শহরের টিকিট আগেই বিক্রি হওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে যারা বাড়ি ফিরছেন তারা লোকাল সার্ভিসের মাধ্যমেই যাত্রা করছেন। সেই সুযোগে ঢাকার অভ্যন্তরে চলাচল করা লোকাল পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। ঢাকা থেকে আরিচা পর্যন্ত চলাচলকারী কাউন্টার সার্ভিসের বাসগুলো ঈদের আগে নির্ধারিত ১০০ টাকায় যাতায়াত করলেও সেই ভাড়া বর্তমানে আদায় করছে ৩০০ টাকা। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে এই অতিরিক্ত ভাড়ায় বাড়ির উদ্দেশে ছুটছে। আবার অনেকেই এই অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না থাকার কারণে বাসের ছাদে করেই ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করছে।

গাবতলী থেকে বাসের ছাদে আরিচাঘাটের উদ্দেশে রওনা হওয়া গামের্ন্টস কর্মী তামিম বলেন, সকালে ছুটি হওয়ার কারণে এখন বাড়ি যাচ্ছি। তবে গাবতলী থেকে যেসব লোকাল বাস ছাড়ছে সেগুলো অতিরিক্ত কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করছে। ১০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নিচ্ছে। তাই ২০০ টাকা দিয়ে বাসের ছাদে বাধ্য হয়ে ফিরছি। ’

গাবতলীর মতো প্রায় একই চিত্র আন্তঃজেলা মহাখালী বাস টার্মিনালে। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যেও টিকিট পাচ্ছেন না। ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া সৌখিন, এনা পরিবহনের টিকিটের লাইন প্রধান সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সেখানেও রয়েছে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, গাবতলী টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসের টিকিট আগেই বিক্রি করা হয়। অনেকে টিকিট না পেয়ে বিভিন্ন লোকাল পরিবহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে গত দুইদিনের তুলনায় যাত্রীদের চাপ আজ অনেক বেশি ছিল। সেই সুযোগেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে লোকাল পরিবহনের মালিকরা।

তবুও এতকিছুর পরেও নারীর টানে বাড়ি ফেরা এবং ঈদ আনন্দ উৎসবে প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগ দিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বৃষ্টি আর ভাড়ার যাতাকলে পিষ্ট হওয়া রাজধানীবাসীর অনেকেই।