মেইন ম্যেনু

শেষ সময়টা যেভাবে কাটছে নিজামীর

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর রায় কার্যকর হতে পারে যেকোনো সময়। শেষ সময় তিনি কীভাবে কাটাচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল অনেকেরই। বিষয়টি জানতে কথা হয় কারাগারে নিজামীর সেলের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নামাজ আর কোরআন তেলাওয়াত করে সময় পার করছেন নিজামী। তিনি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার রায় পড়ে শোনানোর পর থেকে নিজামী কিছুটা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। রাতে অনেক দেরি করে ঘুমাতে যান। তিনি নফল নামাজ আর কোরআন তেলাওয়াত করেন অনেক রাত পর্যন্ত। পরে ঘুমিয়ে পড়েন।

আজ মঙ্গলবার খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন নিজামী। নামাজ আদায় করেন, কোরআন তেলাওয়াত করেন। কিছুটা সময় অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে পার করেন। পরে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাঁকেও সকালের নাশতা দেওয়া হয়।

নাশতায় ছিল দুটি রুটি ও এক বাটি ভাজি। ডিম বা চা লাগবে কি না, এমন প্রশ্ন করলে তিনি ‘না’ বলেন। তা ছাড়া তাঁর চায়ের অভ্যাস নেই বলেও জানান।

এরপর নিজামী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা যায় কি না, তা জানতে চান একজন ডেপুটি জেলারের কাছে। তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না তা কারাগারের জ্যেষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছে জানাবেন বলে জানান। তবে দুপুর পর্যন্ত তাঁর প্রাণভিক্ষার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির সাংবাদিকদের বলেন, একজন আসামি জেলে থাকাকালীন যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তার সব কিছুই নিজামীকে দেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাহী হাকিম এলেই প্রাণভিক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। আজ সকালে কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে গেলে নিজামী এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন।

গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজামীকে রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে শোনানো হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর জানান, রায় পড়ে শোনানোর সময় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রাণভিক্ষার বিষয়টি হাকিমের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসা করা হবে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। এরপর বিকেল ৫টার কিছু পর আপিল বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে লাল কাপড়ে মোড়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে রওনা হয়। পরে ৭টা ৫ মিনিটে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর রায়ের কপি গ্রহণ করেন।

গত রোববার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মতিউর রহমান নিজামীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়।

গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।