মেইন ম্যেনু

শেষ সময়ে জমবে টুপি-আতরের বাজার!

বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই। ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়িরাও। জমজমাট এ ঈদ বাজারের পোশাকের পাশাপাশি সবাই একপাক ঘুরে যাচ্ছে আতর ও টুপির দোকানে।

ঈদের নামাজে নতুন পাঞ্জাবির সাথে মিল রেখে টুপি আর একটুখানি আতরের সুবাস না হলে যেন অপূর্ণতা থেকে যাবে ঈদ আনন্দ। তাই ঈদের সার্বিক কেনাকাটার পাশাপাশি টুপি, আতর যেন অপরিহার‌্য।

তবে কাপড়-জুতার মার্কেটের মতো জমেনি টুপি, জায়নামাজের বাজার। ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতারা এখনো প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করেনি। তারা অন্যসব কেনাকাটা শেষ করেই আতর, টুপি, জায়নামাজ কেনার জন্য ভীড় করে। আর তাই রোজার শেষ দিকে জমে ওঠে এ বাজারগুলো।

সরেজমিনে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের আন্ডার গ্রাউন্ডের টুপির দোকান ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের মোটামুটি ভিড় রয়েছে। তবে দোকানীরা বলছে গতবারের তুলনায় এবার বাজার কিছু মন্দা। রোজার শেষের দিকে আবার মার্কেট জমে উঠবে।

বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ‘চায়ানিকা হাউজ’ এর স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল গফুর জানান, গতবার এ সময়ে আমাদের বেশ ভালো বেচা-কেনা হয়েও এবারে সে ভাবে হচ্ছে না। তবে ২৫ রোজার পর আমাদের এখানে ভালো বেচা বিক্রি হবে।

কাস্টমার কম আসার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আসলে টুপি এখন আর কয় জনে ব্যবহার করে। অন্য সব জামা কাপড়ের তুলনায় টুপি ব্যবহার কারির সংখ্য অতি সামান্য। তারপরও আশা করছি দুই একদিন পর বাজার জমে উঠবে, বললেন গফুর।

বিদেশি টুপির তুলনায় দেশি টুপিরই চাহিদা বেশি বলে জানালেন আল-মোলাকাত ক্যাপ কর্ণার এর প্রোপাইটর অহিদ উল্লাহ। তিনি জানান, এখানে তুর্কি, পাকিস্তান, চায়না, ইন্ডিয়া, গুজরাটিসহ অনেক দেশের টুপি রয়েছে তবে বাংলাদেশি টুপির চাহিদা অন্য দেশের টুপির থেকে একটু বেশি।

পাশাপাশি অনেক দোকানে বিক্রি হয় আতর আর তসবিও। পুরো রমজান মাস জুড়ে তাসবির ব্যাপক বিক্রি থাকলেও ঈদের আগে বিক্রি বেড়েছে আতরের। ‌টুপি ঘরের মালিক আব্দুল মালেক বলেন, মূলত শবে বরাতের পর থেকে আতরের বিক্রিটা বেড়ে যাবে।

বাজার হেঁটে দেখা যায় নানা রংয়ের নানা ডিজাইনের দেশি বিদেশি টুপি, আতর ও জায়নামাজ পসরা বাজার।

বায়তুল মোকাররম মার্কেটে দেশিয় টুপি ছাড়াও রয়েছে তুর্কি, পাকিস্তান, চায়না, ইন্ডিয়ান গুজরাটি টুপি। বাজারে দেশি টুপি ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তানি সিন্ধি টুপি ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়, কাস্মির টুপি ২০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়, জিন্নাহ, নিজামি ও নেয়ামত টুপি ১৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকায়, কাজ করা টুপি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায়, স্টোন টুপি ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে সৌদি আরবের বুগিস্ট টুপি ৬০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকায়, নরমাল টুপি ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি চায়নার ও ইন্ডিয়ান টুপিতেই বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। এর মধ্যে চায়না টুপি ১০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায়, ইন্ডিয়ান বুড়ি টুপি ১২০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।