মেইন ম্যেনু

শেষ হচ্ছে মুমিনুলের অন্যরকম অপেক্ষা

অপেক্ষা কখনো মধুর হয়, কখনো হয় বিষণ্ণ। মুমিনুল হকের জন্য বোধহয় দ্বিতীয় শব্দটাই প্রযোজ্য। দেশের ওয়ানডে ক্রিকেট যখন শেকড় থেকে শিখরের পথে, মুমিনুল তখন ওই ‘বিষণ্ণ’ প্রহরে! কবে টেস্ট আসবে সেই অপেক্ষায়।

নির্ধারিত সময়ে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের ঘোষণায় মুমিনুলের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। তার তোড়জোড় দেখেও সেটা টের পাওয়া যাচ্ছ। ২৫ আগস্ট টাইগারদের প্রস্তুতি ম্যাচের কথাই ধরা যাক। তার সতীর্থরা যখন দুই দলে ভাগ হয়ে ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলছিলেন, মুমিনুল তখন নেট করতে ব্যস্ত। ঘাম ঝরিয়ে সাইড লাইন দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে ফিরতে মাঠের দিকে যেভাবে তাকান, তাতে ওই বিষণ্ণ অপেক্ষার ছবিই স্পষ্ট ভাসছিল।

বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে এক বছর পেরিয়ে গেছে। শেষ ম্যাচটি কেমন ছিল, তা অনেকেই মনে করতে পারেন না। নাসির হোসেন সেদিন তো বলেই ফেললেন, ‘কবে টেস্ট খেলেছি মনেই পড়ে না!’

দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হওয়ার ক্ষণে মুমিনুল যেমন উল্লসিত, তেমন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, ‘অনেকদিন বাদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরব। অবশ্যই ভালো লাগছে। ইংল্যান্ড খুব ভালো দল। আমাদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। প্রমাণ করে দিতে হবে আমরা টেস্টটাও খেলতে পারি।’

ইংলিশদের বিপক্ষে এখনো টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। আটবারের দেখায় সবকটিতেই হেরেছে টাইগাররা। মুমিনুল এ কারণেই মূলত সতর্ক।

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই টেস্ট ব্যাটসম্যান নিজেকে ইতিমধ্যে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। তাই তার কাছ থেকে প্রত্যাশাও বেশি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে অর্ধশতক করে ভারতের কিংবদন্তি টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলেন। টানা ১১ টেস্টে অর্ধশতকে রিচার্ডস, বিরেন্দর শেবাগ ও গৌতম গম্ভীরের পাশে বসেন তিনি। ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে খেলা টানা ১১ ম্যাচের যে কোনো এক ইনিংসে অন্তত পঞ্চাশ রান করেন মুমিনুল। এই সময়ে বেশি বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পেলে ছন্দ ঠিক থাকতো। ঠিক থাকতো মুমিনুলের রান করার গতি। সেটা না হওয়ায় আপসোসের অন্ত নেই এই ব্যাটসম্যানের, ‘কী আর করবো। অন্য দেশের মতো বেশি বেশি টেস্ট খেলতে পারলে দলটার চেহারাই পাল্টে যেত। অনেকদিন পর সুযোগ পেয়েছি। সেটা কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।’

অপেক্ষায় মুমিনুল, অপেক্ষায় বাংলাদেশ।