মেইন ম্যেনু

শৈলকুপায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইভটিজিং মামলা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপার উপজেলার গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ইভটিজিং করার দায়ে একটি মামলা হয়েছে (মামলা নং ১১)। মামলাটি করেছেন ওই স্কুলের এক ছাত্রীর বাবা জীবন কুমার দাস। শৈলকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ক্লিন ইমেজের প্রধান শিক্ষককে ফাঁসাতে তার বিরুদ্ধে থানায় এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক মকলেছুর রহমানের স্ত্রী দিলারা বেগম। তিনি জানান, একটি কু-চক্রি মহল তার স্বামীকে ফাঁসাতেই রোববার শৈলকুপায় থানায় এই মামলা করেন। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মখলেচুর রহমান রোববার সকালে ওই স্কুল ছাত্রীকে রোল নম্বর দেয়ার কথা বলে বাড়িতে যেতে বলে। স্কুল ছাত্রী তার এক স্বজনকে সাথে নিয়ে বেলা ১১টার দিকে ওই শিক্ষকের সোনামনি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে যান। এ সময় প্রধান শিক্ষক তার রুমে ডেকে নিয়ে অশোভন আচরণ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে তথ্যানুসন্ধান করে জানা যায়, জেএসসি পরীক্ষার আগেই ৮ম শ্রেনীর ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যায়। যে কারনে দীর্ঘদিন যাবৎ তার লেখাপড়া বন্ধ ছিল। ভর্তির সময় শেষ হওয়ার পরও ৯ম শ্রেনীতে ভর্তি হওয়ার জন্য ওই ছাত্রীর অভিভাবক প্রধান শিক্ষককে চাপ দিয়ে আসছিলো। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে ওই ছাত্রীর বাবার বাকবিতন্ডা হয়। মামলায় উল্লেখিত সোনামনি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের পরিচালক ও বাড়ীর মালিক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, রোববার সকালে তার বাড়ীতে কোন প্রকার অপৃতিকর ঘটনা ঘটেনি। এমনকি আমার ভাড়াটিয়া গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিধ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকলেছুর রহমানের বাড়িতে ওই ছাত্রী আসেনি।

প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান জানান, তাকে হেয় পতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী কথিত ওই ছাত্রীর বাবা জীবন কুমার দাস জানান, রোববার সকালে গাড়াগঞ্জ সোনামনি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সামনে থেকে গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকলেছুর রহমানের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। পরে তারা সামাজিকভাবে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করে।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় আমরা পুলিশ প্রশাসনকে কিছুই জানায়নি। পুলিশই উপযাজক হয়ে আমাদের বাড়িতে এসে দরখাস্তের কথা বলে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস,আই ইকবাল হোসেন জানান, বাদী পক্ষ জীবন কুমার দাস সংখ্যালঘু হওয়ায় সামাজিক প্রতিবন্ধকতার ভয়ে থানায় আসতে ভয় পাচ্ছিলেন। এ কারনে পুলিশ তার বাড়ীতে যেয়ে এজাহারে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে আসে। শৈলকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইভটিজিং মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।