মেইন ম্যেনু

শৈশবের বাড়ির টানে মহারাষ্ট্রে আসেন দাউদ ইব্রাহিম!

শৈশবের বাড়ির টানে নাকি প্রায়ই ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে আসেন দেশটির মোস্ট ওয়ান্টেড ডন দাউদ ইব্রাহিম! দাউদ ইব্রাহিমের এক চাচার বরাত দিয়ে বিস্ময় জাগানিয়া এই তথ্যটি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রত্নগিরি জেলার মাম্বেক গ্রামের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে তিন তলার এক বাংলো। বাড়িটি বহুদিন ধরে নির্জন এবং পরিত্যক্ত। দাউদ ইব্রাহিমের বংশধর এবং দূর সম্পর্কের চাচা আবু ইব্রাহিম জানান, এই বাড়িতেই কেটেছে দাউদ ইব্রাহিমের শৈশব ও কৈশোর।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে আলাপকালে বর্ষিয়ান আবু ইব্রাহিম জানান, এই বাড়ি দাউদের খুব প্রিয়। আর প্রিয় বলেই প্রতি বছর তিনি ছদ্মবেশে এখানে আসেন। এটা অবশ্য, ওই অঞ্চলের অধিবাসীদেরও প্রচলিত বিশ্বাস।

স্থানীয় লোকজনের ধারণা, দাউদ ঘুরে যাওয়ার কয়েকদিন পরই ওই এলাকায় সম্পূর্ণ অচেনা কয়েকজন মানুষ এসে বিস্তর উপহারসামগ্রী দিয়ে যান। এ ছাড়া পরের এক সপ্তাহে নাকি এলাকার মসজিদগুলোতেও ব্যাপক দান পাওয়া যায়।

স্থানীয় লোকমুখে বাংলোটি নিয়ে উৎসাহের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের। বাইরে থেকে এই জেলায় কেউ বেড়াতে এলে একবার না একবার বাড়িটির সামনে আসবেন এবং তুলবেন সেলফি। মারাঠিদের কাছে এই বাংলোর নাম হয়ে গেছে দাউদকা বাংলা।

তবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী দাউদের ছোটবেলার এই বাড়ি নাকি ভুতুড়ে । ডন নাকি ‘কালা জাদু’ করে রেখেছেন। বাড়ির কাছাকাছি গেলে নাকি নারীদের ওপর ভর করে অশুভ আত্মা। পুলিশও নাকি কাছে যেতে ভয় পায়।

এদিকে জেলার পুলিশ জানিয়েছে, এই বাড়িতে দাউদ ইব্রাহিমের জন্ম হলেও শৈশবের পরে এই বাড়িটিতে কখনোই আসেননি এই মোস্ট ওয়ান্টেড ডন। এমনকি ১৯৯৪ সালের পর থেকে এই বাড়িতে কেউ থাকেই না।

এ ছাড়া পুলিশ জানিয়েছে, মুম্বাকেতে দাউদ ইব্রাহিমের পরিবারের মোট ১৫টি সম্পত্তি আছে। এর মধ্যে আটটি সম্পত্তির মালিকানা দাউদের মা আমিনা ইব্রাহিমের নামে। বাকিগুলো দাউদের পরিবারের দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রচলিত ধারণা, ডনের দূর সম্পর্কীয় পরিজনরা এসব সম্পত্তি দেখভাল করেন এবং কর জমা দেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এসব ব্যক্তিগত সম্পত্তির কোনো কর দেওয়া হয় না। আর তাই কোলাপুর আয়কর বিভাগের অধীনে থাকা এই ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।