মেইন ম্যেনু

শ্বেতি রোগের কারণ, চিকিৎসা এবং সতর্কতা

বর্তমান সময়ে খুবই আলোচিত বিভিন্ন চর্ম রোগের মধ্যে শ্বেতি রোগ অন্যতম। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে আমরা অনেকেই এই রোগটির সঠিক কারণ ও করণীয় সম্পর্কে জানি না। নিম্নের লেখায় এ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।

কারণ: ম্যালাসেজিয়া ফারফার নামক এক ধরনের ছত্রাক শ্বেতি রোগের কারণ। মানব শরীরের যে কোনে স্থানেই এই ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। তবে সাধারণত মুখ, বুক, পিঠ, হাতে ও পায়ে এর সংক্রমন বেশি দেখা যায়। ছত্রাক আক্রান্ত স্থানে তৈরি করে ‘অ্যাজালাইক অ্যাসিড’, যা ত্বকের রং নির্ধারক উপাদান ‘পিগমেন্ট’ খেয়ে ফেলে। ফলে ওই স্থানটি সাদা বর্ণ ধারণ করে। ত্বকের এই রং পরিবর্তন হওয়াকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় ‘পিটেরেসিস ভার্সিকালার’। বিবর্ণ হওয়ার পাশাপাশি চুলকানিও থাকতে পারে।

তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে জন্মগতভাবে যাদের শ্বেতি রোগ রয়েছে তারা মূলত এই রোগটি জীনগত ভাবে প্রাপ্ত হয়, তাদেরটা সচরাচর চিকিৎসায়ও ভালো হয় না।

চিকিৎসা:এই রোগের চিকিৎসা বেশ সহজ। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ‘অ্যান্টি-ফাঙ্গাল’ বা ছত্রাকরোধী ওষুধ খেতে পারেন। এছাড়াও সিলেনিয়াম সালফাইড নামক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। আক্রান্ত স্থানে শ্যাম্পু মাখিয়ে ৩০ মিনিট রেখে গোসল করে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করলে শ্বেতি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

সতর্কতা: তবে দীর্ঘসময় ত্বক ভেজা থাকলে শ্বেতি ফিরে আসতে পারে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশও শ্বেতির একটি কারণ। এজন্য ঘামে ভেজা কাপড় বেশিক্ষণ পরে থাকা যাবে না। বাইরে থেকে এসে কাপড় খুলে বাতাসে মেলে দিতে হবে।

যারা দীর্ঘসময় পানি নিয়ে কাজ করেন, বিশেষ করে গৃহিনীরা কাজ শেষে হাত মুছে ফেলা উচিৎ। হাতের ও পায়ের আঙুলের ফাঁকগুলো যাতে ভেজা না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।