মেইন ম্যেনু

শ্রদ্ধায় মহানায়ক বুলবুল আহমেদকে স্মরণ

ঢাকাই চলচ্চিত্রের মহানায়ক বুলবুল আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী ছিল বৃহস্পতিবার(১৪ জুলাই)। ২০১০ সালের এই দিনে তিনি পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরপারে পাড়ি জমান।

প্রয়াত এ অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে (৭ম তলা) শুক্রবার সকাল ১১টায় ‘স্বপ্নলোক’ নামের একটি সংগঠন আয়োজন করে বুলবুল আহমেদ স্মরণ অনুষ্ঠান।

ফিরোজ খানের সভাপতিত্বে স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বুলবুল আহমেদের স্ত্রী ডেইজী আহমেদ, নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, গাজী রাকায়েত, ঝুনা চৌধুরী, চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান, এস এ হক অলিক, নাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, হৃদি হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আতাউর রহমান বলেন, বুলবুল আহমেদ মানুষ হিসেবে ছিলেন অসাধারণ। কেউ ভুল করলে তা ধরিয়ে দিতেন। আমি তো ৭৫ বছরেও বেঁচে আছি। অমিতাভ বচ্চন এই বয়সেও সমানতালে অভিনয় করছেন। সেই তুলনায় অল্প বয়সেই চলে গেলেন বুলবুল আহমেদ।

বুলবল আহমেদের স্ত্রী ডেইজী আহমেদ বলেন, আমার সচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। তাকে সব সময় মনে পড়ে।

উল্লেখ্য, বুলবুল আহমেদ চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। সত্তর ও আশির দশকে আলমগীর কবিরের ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩), সূর্য কন্যা (১৯৭৫), সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭), রূপালী সৈকতে (১৯৭৯), মোহনা (১৯৮২) ও মহানায়ক (১৯৮৫) ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন বুলবুল আহমেদ। তবে চাষী নজরুল ইসলামের দেবদাস চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

বুলবুল আহমেদের জন্ম ১৯৪১ সালে পুরান ঢাকার আগামসি লেনে। তার আসল নাম তাবারক আহমেদ।তবে তার বাবা-মা আদর করে বুলবুল বলে ডাকতেন। বুলবুল আহমেদ পড়াশোনা করেছেন ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, নটরডেম কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে কিছুদিন সিলেট এমসি কলেজেও পড়াশোনা করেছেন। সিলেট এমসি কলেজে থাকাকালে মঞ্চনাটক চিরকুমার সভায় কেন্দ্রীয় ভূমিকায় অভিনয় করে উপস্থিত সবার নজর কাড়তে সক্ষম হন। পড়াশোনা শেষে তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংক টিএসসি শাখার ম্যানেজার হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন।

বুলবুল ডেইজি দম্পতির তিন সন্তান। তারা হলেন, মেয়ে ঐন্দ্রিলা ও তিলোত্তমা এবং ছেলে শুভ।