মেইন ম্যেনু

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় আলীকে শেষ বিদায়

সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ মুষ্ঠিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলিকে সমাহিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেভ হিল কবরস্থানে স্থানীয় সময় শুক্রবার ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয় তাকে। তার আগে কেনটাকির লুইসভিলেতে আলির নিজের শহরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মানুষের অধিকার নিয়ে যুদ্ধের জন্য আলির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তার প্রশংসা করেন মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদি বক্তরা। প্রচার করা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি বক্তব্যও; সেখানেও ছিল আলির প্রশংসা।

এর আগে লুইসভিলের রাস্তা দিয়ে আলির মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ তাকে শেষ বিদায় জানান।

বাংলাদেশ সময় গত শনিবার শেষ রাতের দিকে অ্যারিজোনার ফোনিক্স এরিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহাম্মদ আলি। এরপর বিশ্বব্যাপী তার কোটি ভক্ত-সমর্থকের কথা চিন্তা করে দাফনের জন্য একটু সময় নেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার পরিবারের পক্ষ থেকে আলির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এটিতে কেবল আলির আত্মীয়-স্বজনরাই উপস্থিত ছিলেন।

কেএফসি ইয়াম! সেন্টারে অনুষ্ঠিত আলির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়াও হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। জন্মসূত্রে মুসলমান না হলেও ষাটের দশকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন মোহাম্মদ আলি। তার আগে বিশ্বখ্যাত এই মুষ্টিযোদ্ধার নাম ছিল ক্যাসিয়াস মারসেলাস ক্লে।

শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে আলির স্ত্রী লনির সবার উদ্দেশে বলেন, কোনো নিয়ম যদি আলির পছন্দ না হতো তবে তিনি তা নতুন করে তৈরি করে নিতেন। তার ধর্ম, বিশ্বাস, নাম সবই ছিল তার নিজের মতো করে; এর জন্য যে মূল্যই দিতে হোক না কেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আলি খুব অল্প বয়সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, নিজের ভাগ্য তিনি নিজেই লিখবেন।

রম্য অভিনেতা বিলি ক্রিস্ট্যাল বলেন, বক্সিং ছাড়ার ৩৫ বছর পরও তিনি মানুষের কাছে চ্যাম্পিয়নই ছিলেন। জর্দানের কিং আব্দুল্লাহও অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আলির মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে নানা স্লোগান দিয়েছেন তাকে চিরকালের জন্য হারানো মানুষগুলো। আলির মরদেহ বহনকারী গাড়িতে ফুল ছুড়ে তারা জানিয়েছেন মহান এই ক্রীড়াবিদকে শেষ ভালোবাসা।

এরপর কেভ হিল কবরস্থানে দাফন করা হয় সর্বকালের সেরা এই মুষ্টিযোদ্ধাকে। সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা উইল স্মিথ ও সাবেক মুষ্টিযোদ্ধা লেনক্স লুইস।

পেশাদার বক্সার হিসেবে আলি তার জীবদ্দশায় ৬১টি ম্যাচ খেলেছে হেরেছিলেন মাত্র পাঁচটিতে।

মোহাম্মদ আলি ছিলেন সব সময়ই প্রচারবিমুখ। তবে তিনি হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রীয় সীমানা ছাড়িয়ে, জাতি এবং ধর্মকে ছাপিয়ে সার্বজনীনতার প্রতীক। যাদের বিপক্ষে তিনি লড়াই করেছেন, তারা সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে গেছেন হয়তো; কিন্তু আজীবনই একজন যোদ্ধা ছিলেন মোহাম্মদ আলি।

১২ বছর বয়সেই বক্সিং শুরু করা মোহাম্মদ আলি ১৯৬০ সালে রোম অলিম্পিকের আগেই গোল্ডেন গ্লাভস জয় করে ফেলেন। এরপর অলিম্পিকে গিয়ে লাইট হেভিওয়েটে জেতেন গোল্ড মেডেল।

জীবনের শেষ ৩২টা বসন্ত পার্কিনসন্স ডিজিজে ভুগে কাটাতে হয়েছে মোহাম্মদ আলিকে; যার জন্য কিছুদিন পর পরই ভর্তি হওয়া লাগতো হাসপাতালে। সর্বশেষ গেল বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন শ্বাসকষ্ট নিয়ে। এরপর আর ফিরলেন না। লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন পৃথিবী থেকে।