মেইন ম্যেনু

শ্রমিকরা জানে না আজ তাদের অধিকার আদায়ের দিন!

যাদের জন্য মে দিবস সেই শ্রমিকরা জানে না আজ তাদের অধিকার আদায়ের দিন। আবার যারা জানেন তারও পেটের দায়ে কাজে নেমেছেন এ দিনে। কথা হয়, রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত হাবিব এন্টারপ্রাইজের শ্রমিক মজিদের সাথে তিনি জানেন না মে দিবস কি? প্রতিদিনের মত আজও কাজ করছেন কারখানায়। হাবিব বলেন আমাদের কারখানায় স্টিলের পণ্যে তৈরি করা হয়।

আমি সারা দিন হাতুড়ি পিটিয়ে ৪’শ টাকা পাই একদিন কাজ না করলে বাসয় বউ-বাচ্চা অনাহারে থকবে। তাই প্রতিদিনের মত আজও কাজ করতে এসেছি।

আজকে মে দিবস আপনে জানেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি পড়াশুনা করিনি মে দিবস কি আমি কিভাবে বলব। আমি কাজ করলে মালিক টাকা দিবেন আমি খাইতে পারব এটাই আমি জানি।

কারখানার মালিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার অনেক অডারের কাজ থাকে কাস্টমারদের সময় মত দিতে হয় তাই কারখানা বন্ধ রাখিনি। কোন শ্রমিক আজকে কারখানায় না আসলে আমরা জোড় করতাম না, হয়ত এ দিনের টাকা পেত না কিন্তু তাদের চাকরিত চলে যেত না।

এদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে দেখা যায় রাস্তার সাইটে কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ শ্রমিক ইট ভাঙ্গা মেশিনে কাজ করছে তাদের একজনের নাম হালিমা তিনি বলেন, আমরা জানি আজকে মে দিবস কিন্তু কি করব মালিকত কাজ না করলে আজকে বসে রেখে বেতন দেবে না। তাই পেটের দায়ে কাজে নেমেছি।

শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহকারী সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, আমাদের দেশে এসব বিষয়ে তেমন সক্ত কোন আইন করা হয়নি। যদি হত কোন শ্রমিক কে আজ কাজে নামত না। অন্য দেশে মে দিবসে শ্রমিকরা কাজ না করলেও এ দিনের মজুরি ঠিকই পায়। কিন্তু আমাদের দেশের মালিকরা কাজ ছাড়া এদিনের কোন মজুরি দেয়না শ্রমিকদের।

১৮৮৬ সালের পহেলা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করে শ্রমিকরা। এতে প্রায় ৩ লাখ মেহনতি মানুষ অংশ নেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের রুখতে মিছিলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।

দাবি আদায়ের জন্য সেদিন শ্রমিকদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল শিকাগোর রাজপথ। আন্দোলনে অংশ নেয়ার অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় গ্রেপ্তারকৃত ৬ শ্রমিককে। কারাগারে বন্দিদশায় এক শ্রমিক নেতা আত্মহননও করেন।

শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগ ও রক্তস্নাত ঘটনার মধ্যদিয়ে দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিজয় হয়। শ্রমিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই সেদিন মালিকরা স্বীকার করে নিয়েছিল শ্রমিকরাও মানুষ। তারা যন্ত্র নয়, তাদেরও বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

১৯৮৯ সালে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে দিবসটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে বিশ্বব্যাপী দিনটি মহান মে দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের সকল দেশেই আজ পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।



« (পূর্বের সংবাদ)