মেইন ম্যেনু

শ্রাবণ বা আশ্বিন নয়, হিন্দুমতে ভাদ্রই কি সবথেকে ‘পবিত্র’ মাস?

তাহলে মাহ ভাদর কি বিরহের? এই অনুষঙ্গে মনে পড়ে যায়, এই মাসেই জন্মাষ্টমী। বিদ্যাপতির পদাবলিতে ‘ভাদর’ কৃষ্ণের অভিসারের মাস। শ্রীরাধার সঙ্গে পবিত্র মিলনের মাস।

‘শিবের মাস’ শ্রাবণ আর উৎসবের মাস ‘আশ্বিন’। এই দুইয়ের মাঝখানে নাকি বিরাজ করে ‘পচা ভাদ্র’। বাঙালি ভাদ্রকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও, হিন্দু ঐতিহ্যে ভাদ্রের গুরুত্ব একেবারেই অন্য রকম। শ্রীকৃষ্ণের জন্মমাস বলে নয়, ভাদ্রে পালনীয় পবিত্র তিথির সংখ্যা অন্য মাসগুলিকে পিছনে ফেলে দিতেই পারে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, ভাদ্র মাস তীর্থযাত্রার জন্য সবথেকে প্রশস্ত। তা ছাড়া, শ্রাদ্ধকাণ্ড সম্পন্ন করার জন্যেও ভাদ্রমাস অতীব শুভ। ভাদ্র মলমাস হিসেবে চিহ্নিত। এই মাসে বিবাহাদি কাজ নিষিদ্ধ। তাহলে মাহ ভাদর কি বিরহের? এই অনুষঙ্গে মনে পড়ে যায়, এই মাসেই জন্মাষ্টমী। বিদ্যাপতির পদাবলিতে ‘ভাদর’ কৃষ্ণের অভিসারের মাস। শ্রীরাধার সঙ্গে পবিত্র মিলনের মাস।

• ভাদ্রের অন্যতম ব্রত অজা একাদশী। ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে ২৪টি উপবাসের একটি এই তিথিতে করা হয়। এই একাদশীতে অন্নগ্রহণ নিষিদ্ধ।

• জন্মাষ্টমীর পরের দিনই নন্দোৎসব। সারা ভারতে পালিত হয় ‘দহি-হান্ডি’ উৎসব। মানব-পিরামিড গড়ে ভাঙার চেষ্টা চলে বহু উঁচুতে রাখা মটকা। ‘আলা রে গোবিন্দা আলা’ গানে মাতোয়ারা মহারাষ্ট্র-গুজরাত।

• ভাদ্রের আর এক প্রধান উৎসব গণেশ চতুর্থী। জ্ঞান, ঋদ্ধি আর সৌভাগ্যের উদ্দেশ্যে পূজিত হন বিনায়ক।

• সপ্তর্ষির উদ্দেশ্যে পালিত হয় ঋষি পঞ্চমী। মূলত নারীরা এই তিথিতে ব্রতধারণ করেন। এই ব্রতের ফল সাত ঋষির আশীর্বাদ লাভ, যাবতীয় সমস্যার নিরসন।

• জন্মাষ্টমীর পরিপূরক রাধাষ্টমী। হ্লাদিনীশক্তি শ্রীরাধার জন্মতিথি। ভাদ্রেই কৃষ্ণ ও রাধার জন্মতিথি পালন এক মহাজাগতিক মিলনের কথা ব্যক্ত করে। গূঢ় প্রতীকী এই মাস।

• ভাদ্রের আর এক একাদশী তিথি পরশ্ব একাদশী। বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে নিবেদিত ২৪ একাদশীর অন্যতম এই তিথিতে নিরামিষ আহার গ্রহণ বিধেয়।

• ত্রেতা যুগে বিষ্ণুর বামনাবতার রূপধারণকে মনে রেখে পালিত হয় বামন জয়ন্তী। এ-ও এক বৈষ্ণব উৎসব।

• ভাদ্রের শুক্লাষ্টমী বা গণেশ চতুর্থীর চার দিন পরে উদ্‌যাপিত হয় মহালক্ষ্মী ব্রত।

• ভাদ্রের অন্যতম পবিত্র তিথি অনন্ত চতুর্দশী। বিষ্ণুর অনন্তরূপকে সম্মান করেই পালিত হয় এই তিথি। উপবাস ও নতুন উপবীত গ্রহণ এই তিথিতে কর্তব্য।