মেইন ম্যেনু

শ্রেণি-শিক্ষক সংকট ও জটের বোঝা মাথায় নিয়েই বেরোবিতে ১ম বর্ষের ক্লাস শুরু

এইচ.এম নুর আলম, বেরোবি প্রতিনিধি: প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ, বিভাগগুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট এবং শুরুতেই দুই মাসের জটের বোঝা নিয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শুরু হলো ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পথচলা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় বিভাগীয় ক্লাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের এ পথচলা শুরু হয়। তবে ক্লাস শুরুর একদিন আগে হঠাৎ করে এ নির্দেশনা আসায় অনেক বিভাগই সঠিক সময়ে যেমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে নি তেমনি অনেক শিক্ষার্থীও উপস্থিত হতে পারে নি।

এদিকে প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প ক্লাসরুম ও প্রয়োজনানুসারে শিক্ষক স্বল্পতার কারনে যথাসময়ে ক্লাস শুরু করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ টি বিভাগ। বিভাগগুলোতে এত পরিমান শিক্ষক কম যে, তাঁরা আগের ব্যাচগুলোরই ক্লাস নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তার উপর ভর্তিচ্ছু ৮ম ব্যাচের ১২০০ শিক্ষার্থীর ক্লাস।

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কীভাবে ১৪০ জনের মতো শিক্ষক ক্লাস নেন তা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। তার মধ্যে অনেক শিক্ষকই শিক্ষাছুটিতে বাইরে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. সাইদুল হক বলেন, ‘মূলত জানুয়ারি থেকেই শিক্ষাবর্ষ শুরু এবং ঐ সময়েই ক্লাস আরম্ভ হওয়ার কথা। কিন্তু যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সময় পরীক্ষা শুরু হয় তারপর থেকেই ক্লাস শুরু হয়। নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাস শুরু না হওয়ায় সেশনজট বেড়ে যায়। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এর ব্যতিক্রমও হয়।’

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২১ টি বিভাগের মধ্যে দুই-একটা ছাড়া প্রায় প্রত্যেকটি বিভাগেই রয়েছে ক্লাসরুম সংকট। যার মধ্যে লোক প্রশাসন বিভাগের চারটি ব্যাচের বিপরীতে রয়েছে দুই টি ক্লাসরুম,ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে পাঁচটি ব্যাচের বিপরীতে রয়েছে দুইটি ক্লাসরুম,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ছয়টি ব্যাচের বিপরীতে দুটি,রসায়ন বিভাগে ছয়টি ব্যাচের বিপরীতে দুটি,বাংলা বিভাগে সাতটি ব্যাচের বিপরীতে তিনটি এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে নিদিষ্ট কোন ক্লাস রুম না থাকায় তারা চারটি ব্যাচের বিপরীতে দুইটি মাত্র অস্থায়ী ক্লাসরুম নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম।

লোক প্রশাসন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বিভাগে মোট ৪ টি ব্যাচ রয়েছে যার বিপরীতে রয়েছে মাত্র ২ টি ক্লাস রুম। অনেক সময় দেখা যায় যে আমরা যখন ক্লাস করতে আসি,তখন দেখি অন্য ব্যাচের ক্লাস হচ্ছে। যার ফলে আমাদের ঘণ্টা-ঘণ্টা সময় নষ্ট করে ক্লাসরুমের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।এতে তারা পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমাদের ৫টি ব্যাচ থাকার সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত আমাদের কোন স্থায়ী ক্লাসরুম নাই। তারা আরো বলেন ,যেখানে অন্যান্য বিভাগের ৪ থেকে ৫ টি ক্লাসরুম রয়েছে, সেখানে আমাদের মাত্র ১টি ক্লাস রুম রয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য বিভাগেরও একই অবস্থা নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন ও ক্লাসরুম না থাকায় তীব্র শ্রেণীকক্ষের সংকটের এমন অবস্থা দিন দিন বেড়েই চলেছে প্রকটভাবে।এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভূগী শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

হাতে গোনা কয়েকটি বিভাগ ছাড়া বেশিরভাগ বিভাগেই ব্যাচের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেক কম। যেমন মার্কেটিং বিভাগের ৮ টি ব্যাচের জায়গায় শিক্ষক সংখ্যা ৫ জন। বাংলা বিভাগে বর্তমান যোগ হওয়া ব্যাচসহ ৮ম ব্যাচের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৭ জন। ইতিহাস বিভাগে ৮ টি ব্যাচের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ৪জন।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে বর্তমান ব্যাচসহ ৫ টি ব্যাচের বিপরীতে মাত্র ৪ জন শিক্ষক।

জানা যায়, ইতিহাস ও প্রতœতত্ত এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে গত উপাচার্যের সময় শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা থাকায় ৪ বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে এই দুই বিভাগে। ফলে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে এ দুটি বিভাগ তাদের জট কমানোর চেষ্টা করলেও হিমশিম খাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে ইতিহাস ও প্রতœতত্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপাওে উপাচার্যকে জিজ্ঞেস করলে মামলা রয়েছে বলে জানান। এই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সংক্রান্ত আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নাই তবে উকিল নোটিশ রয়েছে যেটাতে শিক্ষক নিয়োগে কোনো বাধাগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা নাই বলে জানান এই শিক্ষক।

আপনার বিভাগে তো ৪ জন শিক্ষক যার বিপরীতে ৫ টি ব্যাচ। তো কীভাবে সামলাচ্ছেন ব্যাচগুলো জানতে চাইলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কখনোই ৪ জন শিক্ষক দ্বারা ৫ টি ব্যাচের ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। এ্টা অমানবিক। এটা কখনোই সম্ভব না। এটা অবাস্তব কল্পনা। বিভাগে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, উপাচার্যকে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি মামলা রয়েছে বলে জানান।’

ড. তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা অথবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর অথবা অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর লেভেলে নরমালি (স্বাভাবিকভাবে) একটি/দুটি ক্লাস নেয় এবং লেকচারার (প্রভাষক) লেভেলে দুটি/তিনটি ক্লাস নেয়।

তিনি বিভাগগুলোর করুন পরিস্থিতি তুলে ধরে আরো বলেন,‘বিশেষ করে প্রতিষ্ঠাকালীন ৬ টি ব্যাচের অবস্থা খুবই খারাপ। এসব বিভাগ পরিচালনায় আমাদের (বিভাগীয় শিক্ষকদের) নাভিশ্বাস উঠেছে। এসব বিভাগে শ্রীঘ্রই শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন।’