মেইন ম্যেনু

শ্রেণীকক্ষে আটকে চুমো দেয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

শ্রেণীকক্ষে আটকে চুমো দেয়ায় এবং বখাটের উৎপাতে মাদারীপুরে এবার প্রাণ গেল এক স্কুল ছাত্রীর।

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা মুক্তিসেনা হাই স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রী আজমেরি আক্তার কিরণকে (১৪) একই শ্রেণীর সম্রাট নামে এক ছাত্র তাকে উত্যক্ত করত বলে ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ। স্কুলের নিচতলা থেকে হাত ধরে টেনে নিয়ে দোতলার একটি কক্ষ আটকে চুমো দেয়ার ঘটনায় রোববার বিচারের কথা নির্ধারিত হলেও এর আগেই বুধবার সন্ধ্যায় বসতঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন।

খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ পুলিশ। তবে আর্থিকভাবে দরিদ্র হওয়ায় এবং বিচার পাবেন না এই ধারণায় মামলা করেন নি ওই স্কুলছাত্রী বাবা-মা। বৃহস্পতিবার বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে আজমেরির আত্মহত্যার পর থেকেই সম্রাট ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
গত ১৯ আগষ্ট সম্রাট ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের একটি খালি শ্রেণী কক্ষে জোর করে নিয়ে যায়। ২২ আগষ্ট ওই ছাত্রী এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। ২৬ আগষ্ট বুধবার সে মারা যায়।

পাঁচখোলা মুক্তিসেনা হাই স্কুল ও কলেজ এবং নিহত আজমেরির পরিবারিক সূত্র জানায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের সিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে আজমেরি আক্তার কিরন পাঁচখোলা মুক্তিসেনা হাই স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। একই এলাকার লতিফ সরদারের পুত্র সম্রাট একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র সম্রাট দুই মাস ধরে আজমেরিকে উত্যক্ত করত।

গত ১৯ আগষ্ট বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় সম্রাট আজমেরিকে জোর করে একটি খালি কক্ষে নিয়ে যায়। ওই দিনই সে বিষয়টি শ্রেণী শিক্ষক সালমা বেগমকে জানায়। সালমা বেগমের পরামর্শে আজমেরি ২২ আগষ্ট বিষয়টি লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষককে জানায়। প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য ওই দিনই চার সদস্যের একটি কমিটি করেন। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শহীদুল আলম, দুলাল মুখার্জী, কামাল হোসেন মৃধা ও সালমা বেগমকে তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তারা ২৫ আগষ্ট প্রধান শিক্ষকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

আজমেরির মা ঝর্ণা বেগম বলেন, ১৯ তারিখের বিষয়টি প্রথম সে আমাদের বলেনি। ঘরের মধ্যে সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকত। তার কি হয়েছে আমি জানতে চাই, তখন সে আমাকে সব জানায়। মেয়েকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করি।

এরপরে সে মঙ্গলবার স্কুলে থেকে ফিরে এসে কান্না করতে থাকে। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি। বুধবার সে আর স্কুলে যায়নি। আমরা কৃষিকাজে বাড়ির বাইরে গেলে সে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাস দেয়। সম্রাটের অপমান সইতে না পেরে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাৎক্ষনিকভাবে সম্রাটের বিচার করা হলে আমার মেয়ে এ পথ বেছে নিত না।

নিহত আজমেরির বাবা সিরাজ মাতুব্বর বলেন, আমার মেয়েটি লাজুক চাপা স্বভাবের, সহজে কাউকে কিছু বলত না। সম্রাট খারাপ কিছু করেছে না হলে সে আত্মহত্যা করবে কেন? আমরা গরীব মানুষ। যে কারণেই হোক ওর মৃত্যুর বিচার পাব কিভাবে। মামলা চালানোর মত অবস্থা আমাদের নেই। তাই কোন মামলা করিনি।

প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলেছেন। আমিও তাই তাদের কাছে বিচারের কথা বলেছি।

পাঁচখোলা ইউপি চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন টুকু মোল্লা বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি ওই মেয়েটির বাড়িতে যাই। তার পরিবারের কারও উপর কোন অভিযোগ নেই। তারাই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলেছে। এ বিষয়ে মীমাংসার কোন উদ্যোগ নেয়া হয় নি।

পাঁচখোলা মুক্তিসেনা হাই স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার মিয়া বলেন, মেয়েটির অভিযোগ পেয়ে সম্রাটকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম সে অভিযোগ অস্বীকার করে। তখন ঘটনাটি জানার জন্য তদন্ত কমিটি করে দেই। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগেই মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। এখন পরিবার চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে, পরিবার থেকে এমন তথ্য পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা কোন অভিযোগ করেনি। মেয়েটির মা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, তার মৃত্যুর জন্যকেউ দায়ী হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ আগষ্ট মস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর দুই শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও হ্যাপী আক্তার বখাটেদের অত্যাচারে মারা যায়।