মেইন ম্যেনু

সংকটে পড়তে পারে সিঙ্গাপুরে জনশক্তি রপ্তানি

সিঙ্গাপুরে পরপর দুই দফায় সন্দেহভাজন বাংলাদেশি জঙ্গি আটকের ঘটনায় দেশটিতে শ্রমিক রপ্তানি প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত শ্রমিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না জেনে তাদের ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমোদনপত্র) দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের নিয়োগকর্তারা।

দেশটির গণমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমস জানায়, এখনো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের নিয়োগকর্তারা। তবে ওয়ার্ক পারমিট পেতে কিছুদিন দেরি করতে হবে তাদের। সিঙ্গাপুর যাওয়ার ক্ষেত্রে গত বছর পর্যন্ত যেসব তথ্য দিতে হতো তার সাথে আরো কিছু বিশেষ তথ্য দিতে হবে কর্মীদের। এর মধ্যে মা-বাবার নাম এবং নিজের গ্রামের বাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে।

মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় গত মাসে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা ইনটার্নাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (আইএসএ) জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে আট বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশে ফিরে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। একই দিন ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আরো পাঁচজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এদের গত ২৯ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

সিঙ্গাপুর সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে শ্রমিকদের সম্পর্কে এসব তথ্য চাওয়া হচ্ছে। দেশটির পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেএফ এমপ্লয়মেন্ট কনসালটেন্টস’র মালিক কেন্ট এনজি বলেন, ‘শ্রমিকদের পরিবার সম্পর্কে আমাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।’

তবে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া বন্ধ হবে না বলেও জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়। শ্রমিক নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ‘অনুমোদিত’ দেশ হিসেবেই থাকবে। কেন্ট এনজি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রমী এবং ভালো মানুষ।’

বাংলাদেশ থেকে প্রধানত সিঙ্গাপুরের জাহাজ নির্মাণ, ভবন নির্মাণসহ আরো কিছু খাতে শ্রমিক নেয়া হয়। এসব খাতে কর্মী নেয়ার প্রধান দুটি উৎসের একটি বাংলাদেশ। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ দেশটিতে ২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বসবাসরত বাকি বাংলাদেশিরা আছেন লজ্জা আর চাকরি হারানোর ভীতির মধ্যে। দেশটির নাগরিকরা বাংলাদেশিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকছেন এবং তাদের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন।

নতুন করে এই ঘটনা আরো ঝামেলা করলো বাংলাদেশিদের জন্য। সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহেদুজ্জামান বিবিসিকে জানান, যদিও এরা খুবই ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী কিন্তু বারবার এ ধরনের ঘটনায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ কমিউনিটির ওপর কোনো প্রভাব পড়ে কিনা- তা নিয়ে তারা আশঙ্কায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে সবাই খুবই শান্তিপূর্ণ। ধর্ম বর্ণ নির্বিষেশে কাউকে কটাক্ষ করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু পরপর দুইটি ঘটনায় সিঙ্গাপুরীয়দের মধ্যে হয়তো বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে।’

সিঙ্গাপুর থেকে প্রতিমাসে ৪২ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে আসে, যা রেমিট্যান্সের দিক থেকে তৃতীয়। এ রকম ঘটনার পর যদি তারা কর্মী নেয়া কমিয়ে দেয় বা ভিসা কঠিন করে দেয় তার প্রভাব সবক্ষেত্রেই পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ সোসাইটির এই সাবেক সভাপতি।