মেইন ম্যেনু

সংকট থাকবেই, এলপি গ্যাসে যাওয়ার পরামর্শ প্রতিমন্ত্রীর

বাসাবাড়িতে চলমান গ্যাস সংকট সমাধা হতে আরও তিন-চার দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, গ্যাসের সংকট চলতেই থাকবে। তাই আবাসিক গ্রাহকদের এলপিজেতে অভ্যস্ত হতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আবাসিক খাতে গ্যাসের যে সমস্যা, আমি আগেই বলেছি যে এ সমস্যা থাকবে। আমরা চাইছি আপনারা যারা আবাসিক গ্যাস ব্যবহার করছেন, তারা ধীরে ধীরে এলপিজিতে চলে যান।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শিল্প এলাকায় প্রথমে গ্যাস সরবরাহ করা। আমরা সেদিকে ধাবিত হচ্ছি। আমরা চাচ্ছি যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ যেন হয়।”

শিল্প খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আবাসিকে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না্- এমন প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, দু-একটি শহর দিয়ে বাংলাদেশকে বিচার করা যায় না। দেশের বেশির ভাগ মানুষ এলপিজিতে চলে।

পরিবর্তন হচ্ছে এবং পরিবর্তনটা কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে নসরুল হামিদ বিলেন, “এলপিজি যেন সবার জন্য সাশ্রয়ী হয় এবং দাম যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে, সরকার সে চেষ্টা করছে। আমরা চাচ্ছি, আগামী তিন বছরে আবাসিকের ৭০ শতাংশ যেন এলপিজিতে চলে।”

পাইপলাইনে সমস্যার কারণে বর্তমানে গ্যাসের সংকট চলছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাইপলাইন ঠিক হতে তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে।

আর শিল্পমালিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখন গ্যাসের চাপ কম। তবে আপনাদের যে পরিমাণ গ্যাস দরকার, আমরা তা দেব। হয়তো চার-পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে।”

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে তিন দিনের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শক্তি ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোহতাশেম হোসাইন, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের এ দেশীয় প্রতিনিধি হাসিন জাহান, সাসটেনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম শিকদার, শক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক সাইফুল হক প্রমুখ

গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ থেকে শুরু করে সিএনজি স্টেশনগুলোতে রীতিমতো হাহাকার চলছে। অনেক জায়গায় বাসার গৃহিণীরা রাত জেগে অপেক্ষা করেন গ্যাসের জন্য।

সিএনজি স্টেশনগুলোকে বিশেষ করে দিনের বেলায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। রাত ১২টার পর কিছুটা গ্যাসের চাপ থাকলেও দিনের বেলায় ফের একই সমস্যা দেখা যায়।