মেইন ম্যেনু

সংখ্যালঘুর ঘর গুঁড়িয়ে দিলেন আ.লীগের ইউপি চেয়ারম্যান

ঝালকাঠির কীর্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আ. শুক্কুর মোল্লা এবং তার ভাই ও ছেলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ভাড়াটে সন্ত্রাসী একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা লুট করেছে মালামাল, দলিলপত্র।

ভাঙচুর ও লুটপাটের ২৪ ঘণ্টা পরও পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করেনি। তবে ঝালকাঠির সংসদ সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর তরুণ কুমার কর্মকার ও শহরের কালীবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে নির্যাতিত পরিবারকে আশ্বস্ত করেন ও আর্থিক সহায়তা দেন।

পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের এ সংখ্যালঘু পরিবারটির ভিটামাটি দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি আ.লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান শুক্কুর মোল্লার সন্ত্রাসী বাহিনী, তাদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে দেশ ছাড়তে ‘হুকুম’ দিয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

সংখ্যালঘু পরিবারটির প্রধান সুখরঞ্জন ব্যাপারী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রবিবার সকালে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বর্তমানে নারী-শিশুসহ খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের সদস্যরা।

জ্ঞানেন্দ্র ব্যাপারীর লিখিত অভিযোগ ও রোববার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানা যায়, তারা ১১টি পরিবার বাপ-দাদার শত বর্ষের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে। উক্ত সম্পত্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এলাকার ‘মামলাবাজ’ বলে পরিচিত আ.লীগ নেতা শুক্কুর মোল্লা ও তার ভাই যুবদল নেতা ইসরাফিল, ছেলে থানা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত মোল্লা ও র‌্যাবন মোল্লারা দীর্ঘ দিন ধরে দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ অবস্থায় পৈতৃক সম্পত্তি ও পূর্বপুরুষের সমাধি রক্ষায় তারা আদালতের আশ্রয় নিলে ২০০৭ সালে ঝালকাঠি সাবজজ আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন।

১৪ মে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান শুক্কুর মোল্লার নির্দেশে তার ভাই ও ছেলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী অগ্নেয়াস্ত্রসহ কুড়াল, রামদা, ছেনা ও শাবল নিয়ে জ্ঞানেন্দ্র ব্যাপারীর বসতঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। তারা এ সময় নারী-পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে সবাইকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে। ছুড়ে ফেলে মালামাল।

ঘরের মধ্যে রক্ষিত স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মূল্যবান মালপত্র ও জমিজমার দলিলপত্র এ সময় লুট হয় বলে অভিযোগ করে সংখ্যালঘু পরিবার।

হামলাকারীরা টিনশেড দোতালা বসতঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এমনকি মাটির তৈরি ঘরের ভিটি কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।

এ নির্যাতনের বিষয়টি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে জানানো হলে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনিরকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় খান সাইফুল্লাহ পনিরের নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর তরুন কুমার কর্মকার, ঝালকাঠি কালিবাড়ী পূজা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রনব কুমার নাথ ভানু, সংখ্যলঘূদের নেতা বিপুল চক্রবর্তী, গোবিন্দ মোদক, যুগল পাল ও যুবলীগ নেতা রিয়াজ তালুকদারসহ সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শুক্কুর মোল্লা বলেন, তিনি সাবকবলা দলিল মূলে ওই জমি কেনার পর বিক্রেতাদের অংশীদার জ্ঞানেন্দ্র ব্যাপারীর সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমার সৃষ্টি হয়। ওই মামলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জেলা জজ আদালতের নাজির ও পুলিশ প্রশাসন শনিবার জমি বুঝিয়ে দিতে ঘটনাস্থলে যায় ও বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ করে। তিনি নিজে ও তার ছেলেরা শনিবার ঝালকাঠিতে শিল্পমন্ত্রীর কর্মসূচিতে ছিলেন বলে দাবি করেন।