মেইন ম্যেনু

সংসদে মাহফুজ আনামের শাস্তি চাইলেন সাংসদরা

জাতীয় সংসদে ‘দ্য ডেইলি স্টারৎ পত্রিকা বন্ধ ও এর সম্পাদক মাহফুজ আনামের শাস্তি দাবি করেছেন সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, সংবাদপত্র পেশাকে অমর্যাদা করেছেন, বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

রোববার রাতে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনায় সংসদ সদস্যরা এসব দাবি সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসসহ সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এসময় বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।

এ আলোচনায় আরও অংশ নেন সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম।

বক্তব্যের শুরুতে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা মনে করি সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। মাহফুজ আনাম এই পেশাকে কলঙ্কিত করেছেন। তার সম্পাদক থাকার আর কোনো অধিকার নেই। এই পেশাকে অমর্যাদা করার জন্য তাকে সাংবাদিকতা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। সাংবাদিকতা যেন না করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ট্রান্সকমের মালিক লতিফুর রহমান। তিনি একজন করাপ্ট। আমরা জানি, বাংলাদেশের অনেকেই জানে সন্ত্রাসী বাহিনী উলফার সঙ্গে তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে আশু পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমি আপনার মাধ্যমে মহান সংসদে উত্থাপন করলাম।’

সংবিধানের অনুচ্ছেদ তুলে ধরে তাপস বলেন, ‘উনার (মাহফুজ আনাম) কার্যক্রম সুনির্দিষ্টভাবে সংবিধানের আর্টিক্যাল (৭) এর উপধারা (২) এর আওতায় রাষ্ট্রদ্রোহের আওতায় পড়ে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এনে তার (মাহফুজ আনাম) বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থা করার জন্য আমি মহান সংসদের মাধ্যমে আমি দাবি উত্থাপন করছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আটক করার জন্য যে নীল নকশা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তার (শেখ হাসিনা) যে অবৈধ এবং মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য মাহফুজ আনাম তার পত্রিকা ডেইলি স্টারে তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের দেয়া মিথ্যা, বানোয়াট দুর্নীতির সাজানো গল্প যে সংবাদ দেয়া হয়েছিল সেগুলো তিনি ছাপিয়েছিল। মাহফুজ আনাম বলেন- ডিজিএফআই যেসব সংবাদ পাঠানো হতো সেটা কোনো রকম সত্যতা যাচাই-বাছাই ছাড়াই ডেইলি স্টারের এডিটর থাকা সত্ত্বেও তিনি সেগুলো কনফার্ম করেননি। সকল মিথ্যা-বানোয়াট মামলা এবং সাজানো গল্পগুলো অকপটে সেই ডেইলি স্টারে ছাপিয়েছেন।’

তাপস বলেন, ‘এই মিথ্যা গল্প ছাপানোর জন্য আমি মাহফুজ আনামের রেজিগনেশন দাবি করছি। এই পত্রিকা অনতিবিলম্বে বন্ধের দাবি করছি। মাহফুজ আনামের মতো লোকেরা অসাংবিধানিক সরকার কায়েম করা এবং গণতন্ত্রকে নসাৎ করার সারা জীবনই ষড়যন্ত্র করে গিয়েছেন। এটা আর কোনোভাবে বরদাস্ত করা যায় না।’

ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বলেন, ‘সাংবাদিকতা রাষ্ট্রীয় চতুর্থ স্তম্ভের জায়গায় চলে যাচ্ছে। কিন্তু সেই সময়ে একজন প্রকাশক কিভাবে সাংবাদিকতার নামে কলঙ্ক এবং সাংবাদিকতাকে আজকে একটা কলঙ্কময় অধ্যায়ে অপচেষ্টায় লিপ্ত। ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এ কাজগুলো উনি করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকতা হবে উইদাউট ফেবার। কিন্তু মানুষ জানে উনাদের টাকা-পয়সার উৎসটা কোথায়। এই ধরনের উৎস থেকে আগত টাকা-পয়সার ব্যক্তিরা একটা সংবাদপত্র কিভাবে ভালো কাজ করবে?’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমাদের সোচ্চার হতে হবে। এরা যাতে আজকে কোনো অবস্থায় সাংবাদিকতা পেশায় না থাকতে পারে এবং তারা যে সমস্ত অপকর্ম করে তা জাতির সামনে উন্মোচিত করতে হবে।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘মাহফুজ আনাম সাহেব জাতির সামনে স্বীকার করলেন তিনি তার পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। সম্পাদক দায়ী হলে মালিক ও প্রকাশক দায়ী নয় এটা ভাবার অবকাশ নেই। তারা মূলত বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করার জন্য, দেশের সম্ভাবনাকে নসাৎ করার জন্য, গরীব মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে ধ্বংস করার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই পরিকল্পিত মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং কাঠগড়ায় তাদের সমুচিত বিচার করা হোক। যাতে ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন।’

নূরজাহান বেগম বলেন, ‘ওনি প্রায়ই রাজনীতিবিদদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু তিনি যে কাজটি করেছেন তা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং এই অনৈতিক কাজ করার জন্য সাংবাদিকতায় থাকারও অধিকার তিনি হারিয়ে ফেলেছেন। যেহেতু তিনি নিজ মুখে স্বীকার করেছেন। তাই এখান থেকে পিছনে ফেরার কোনো কারণ নেই। তাই তার বিচার দাবি করছি।’