মেইন ম্যেনু

সংসদ থেকে বেরিয়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী

নতুন বাজেটে ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদে সেরকারি দলের সংসদ সদস্যদে তোপের মুখে পরে পড়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বর্ষিয়ান এ সংসদ সদস্যকে কড়া সমালোচনা শুনতে হয় তার বিরুদ্ধে। কর্কশ ভাষায় তাকে বিদ্ধ করেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা। সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে সংসদ অধিবেশন থেকে চলে যান।

সোমবার (১৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটর ওপর সংসদ সদস্যদের ব্ক্তব্যের এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনার শুরুতে অর্থমন্ত্রী অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত থাকলেও এক পর্যায়ে উঠে যান। সংসদ থেকে বেরিয়ে গিয়ে আর ফেরেন নি তিনি।

তার অনুপস্থিতেই চলে বাজেট আলোচনা। অধিবেশন চলাকালে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বাজেট দিয়েছেন ভালোকথা। কিন্তু জনগণের কষ্ট আওয়ামী লীগ মেনে নিতে পারে না। আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার করেন। আপনার কিছু কথা বার্তা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। আপনি কম কথা বলেন। বয়স হয়ে গেছে কখন কি বলে ফেলেন।’

বাজেটে সমস্যা থাকলে তা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস দিলেও অর্থমন্ত্রীর ভিন্ন সুরের সমালোচনা করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে বিভ্রান্তির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি বললেন, একলাখ টাকা যার আছে সে সম্পদশালী। চার হাজার কোটি টাকা কোনো টাকা না বললেন, আর একলাখ টাকা, টাকা হয়ে গেল। আপনি অর্থমন্ত্রী, আপনার কাজ বাজেট পেশ করা। এই সংসদের ৩৫০ জন জনগণের প্রতিনিধি ঠিক করবেন জনগণের কল্যাণে কোনটা থাকবে, থাকবে না। একগুয়েমি সিস্টেম বন্ধ করেন, কথা কম বলেন।’

গত ১ জুন প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে দেয়ার পর ব্যাংক হিসাবে বাড়তি আবগারি শুল্ক নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সমালোচনা করে আসছেন। সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর ঘোষণা ও ভ্যাটের হার নিয়েও তাদের আপত্তি আছে।

সেলিম বলেন, ‘আইএমএফ বিশ্বব্যাংকের কথা কথা শুনে… কমিয়ে দিলেন। বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতুর টাকা ঘুরিয়ে নিয়ে গেল। ভ্যাটের আওতা বাড়ান। সব প্রতিষ্ঠানকে ইসিআর মেশিন দেন। যাতে ভ্যাট দিতে বাধ্য থাকেন। ঢালাওভাবে ভ্যাট বিশ্বের কোথাও নেই। প্যাকজে ছিলো… এটা আপনি করবেন না।’

আবগারি শুল্ক আগের অবস্থায় রাখার দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী কী কারণে কার স্বার্থে ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক করেছেন জানা নেই। হল-মার্কের চার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পর অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এ টাকা কিছু নয়। তাহলে কেন সামান্য টাকার জন্য সারা দেশে মানুষের মধ্যে আক্ষেপ ​তৈরি করলেন।’

সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সামনে আমাদের নির্বাচন আসছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করে দিলে…। আগামী নির্বাচনে আল্লাহ তাকে (অর্থমন্ত্রী) সুযোগ দেবে কীনা জানি না। কিন্তু যাদের আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে তারা যাতে নির্বাচন করতে পারে সেটা খেয়াল করতে হবে। মানুষকে যদি বিভ্রান্ত করে দেই তাহলে…?’

১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাবের বিরোধিতা করে সরকারি দলের এই সদস্য বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী ভ্যাট আরোপ করেছেন গণহারে। পৃথিবীর ইতিহাসে এক বছরে ৩০ শতাংশ বাড়তি ভ্যাট আহরণের নজির নেই। এটা যৌক্তিক নয়।’

নির্বাচন বিরোধী বাজেট

হানিফ বলেন, বাজেট নিয়ে সারা দেশে আলোচনার ঝড় চলছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটা নির্বাচনী বাজেট নয়। তাহলে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কবে নির্বাচনী বাজেট দেবেন বলে প্রশ্ন করেন তিনি। আগামী বাজেট কার্যকর হবে জুলাইয়ে। তখন বর্ষা শুরু হবে। সেপ্টেম্বরে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গেলে, অক্টোবরে নির্বচনের তফসিল। এবারই নির্বাচনমুখী বাজেট করা উচিত ছিল। বলা যায় অর্থমন্ত্রী এবার নির্বাচনবিরোধী বাজেট করেছেন।

ব্যাংক খাতে লুটপাটের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘বেসিক ব্যাংককে একহাজার কোটি টাকা মূলধন দেওয়া হচ্ছে। কার টাকা কেন দিচ্ছেন? তারা দুর্নীতির জন্য লুটপাট করবে আর মূলধন দিতে হবে​ আমাদের? প্রয়োজনে এ ব্যাং​কগুলোর বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করা হোক। সরকারি টাকা এভাবে লুটপাট করতে দেওয়া যাবে না।’

ব্যাংক হিসাবে বাড়তি আবগারি শুল্ক প্রত্যহারের দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। সুদ এমনিতেই কম। সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমালে ঠিক হবে না। ১০ শতাংশ বাড়ালে খরচ হবে এক হাজার কোটি টাকা। কিন্তু উপকার পাবে লাখ লাখ মানুষ। এটা সিনিয়র সিটিজেনরা পান। তারা কোথাও হাত পাততে পারে না। অনেক শ্রেণির মানুষকে ভর্তুকি দেই। ঋণ খেলাপিদের বিশাল লিস্ট দিছেন। কই তাদেরতো ধরতে পারেন না। ব্যাংকের টাকা পাচার বন্ধ করতে পারছেন না। আর নিম্ন মধ্যবিত্তের ওপর কর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এটার প্রতিবাদ করছি।’

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের উন্নতি হয়েছে ঠিকই, অনেক লাইন হয়েছে। কিন্তু রমজানের সময়, সেহরির সময় আমার এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। ১৪-১৫ বার যদি বিদ্যুৎ যায় তাহলে…। এগুলো ঠিক করার উদ্যোগ নিন।’

পাশে বসে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জমান খাঁনের উদ্দেশে আবুল কালাম বলেন, ‘এই যে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, শিশু ধর্ষণযেভাবে হচ্ছে… এগুলো জোরালোভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আপনাকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যৌতুকের কারণে বউকে মেরে ফেলছে। দেশ উন্নত হচ্ছে, কিন্তু সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। মানুষ নিশ্চিতে ঘুমাতে পারে না। যুব সমাজ কিভাবে চলছে। ভ্রষ্টাচার, সামাজিক অবক্ষয়।’






মন্তব্য চালু নেই