মেইন ম্যেনু

সংসদ নির্বাচন : আওয়াজে ‘উনিশ’, কাজে ‘আগাম’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে দলটির নেতাদের কার্যক্রমে আগাম নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

শুধু সরকারি দলই নয়, নির্বাচন কমিশনও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি ‘রোড ম্যাপ’ প্রস্তুত করেছে। অপরদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের খসড়া রোডম্যাপে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দল-সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপ, ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের সময়সীমা রাখা হচ্ছে।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং সংসদ নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য ডিজিটাল মেশিন প্রস্তুতের সময়সীমা (টাইম ফ্রেম) নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে রোডম্যাপে।

রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা, মালামাল সংগ্রহ, ভোটের আগে দ্বিতীয় দফায় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ, নির্বাচনী আইন সংশোধনসহ বেশকিছু বিষয় অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের কাজের সঙ্গে আমাদের কাজের তুলনা করার প্রয়োজন নেই। আমরা একটা নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। আমরা নির্বাচনে বিশ্বাস করি। যদি নির্বাচন সহায়ক সরকার থাকে এবং নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত থাকে তাহলে আমরা নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তুত। আমাদের ৩০০ আসনের বিপরীতে ৯০০ প্রার্থী প্রস্তুত আছে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জেলায় সফর করছেন। সফরকালে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্বাচনমুখী হওয়ার নির্দেশনাও দিচ্ছেন।

গত ১২ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

আওয়ামী লীগ ও সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ২৩ অক্টোবর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলটির ২০তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও সরকারের উন্নয়নগুলো প্রচারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাধারণত নির্বাচনের আগেই তিনি নিজ কার্যালয়ে অফিস করেন। রাজনৈতিক কার্যালয় পরিদর্শনকালে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নিদের্শ দেন তিনি।

গত ১৫ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হবে। আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্র মাথায় নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বতর্মান সরকারের বড় বড় সাফল্যগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যত পরিকল্পনা ইশতেহারে যুক্ত হবে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সংসদ সদস্যদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনে প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সময় দিচ্ছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দুটি সংস্থার মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দলীয় মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে। এসব তথ্য বিচার-বিবেচনা করবেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড। তাই আসছে সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে সম্প্রতি দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারি। ১১ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিন অথবা পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের সংবিধানেও এমনটি বলা আছে।

নির্বাচনের দুই বছর আগে থেকে প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি আগে থেকেই নিতে হয়। দেখতে দেখতে দুই বছর পেরিয়ে যাবে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে সেটি উজ্জীবিত রাখাই মূল কাজ।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলার নেতাদের কোন্দল মেটাতে তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসব বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি মোটামুটি সন্তোষজনক। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো সহায়ক সরকার হবে না। কোনো অজুহাতেই আগামী নির্বাচন কেউ বানচাল করতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।খবর জাগো নিউজের।






মন্তব্য চালু নেই