মেইন ম্যেনু

“সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্যের অধিকার চাই”

বাংলাদেশ এখন খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পুর্ন এবং বিপুল পরিমান খাদ্য-শস্য বিদেশে রূপ্তানী করছে। অন্যদিকে সরকার বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। তারপরও পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে “বিপুল মজুত থাকা সত্বেও চালের বাজার নাগালের বাইরে” ইত্যাদি খবরের শিরোনাম। কারন একশ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্য-শস্য মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সরবরাহ সংকট তৈরী করে মানুষের পকেট কাটছে।

অন্যদিকে বিপুল পরিমান খাদ্য, শাকসবজিসহ হরেক রকমের খাদ্যের সরবরাহ ও দোকানে ভরপুর হলেও খাদ্য শস্য ও খাবারে মানব দেহের ক্ষতিকর সার, কীটনাশক, বিভিন্ন কেমিকেল মিশ্রণের কারনে এ খাবার মানুষের শরীরে পুষ্ঠির চাহিদা নিবারনের চেয়ে জীবন হানির কারন হয়ে দাড়াচ্ছে। খাদ্য ব্যবস্থাপনার সকল স্তরে, বিশেষ করে প্রাথমিক ভাবে উৎপাদন থেকে শুরু করে রান্নাঘর পর্যন্ত যেভাবে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষন, পরিবহন ও রান্না হবার কথা, যা পুষ্ঠির গুনাগুণ অক্ষন্ন রাখতে সহায়ক হবে তা না হয়ে কোন প্রকার নিয়মের বালাই না মেনে যেনতেন ভাবে উৎপাদন, সংরক্ষন, পরিবহন এবং রান্নার কারনে দেশের বিপুল পরিমান খাদ্যের বাজার এখন মানব দেহের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। তাই এখন সর্বত্র একই আওয়াজ সকলের জন্য খাদ্যের নিরাপত্তার চেয়ে সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্যের অধিকার চাই। কারন এখন আর মানুষ না খেয়ে মরছে না, মরছে ভেজাল ও অনিরাপদ খাবার গ্রহনের কারনে। আর এই অনিরাপদ খাবার গ্রহনের ফলে কোমলমতি শিশুরা লেখাপড়ায় অমনযোগী, স্থুল স্বাস্থ্য, অরুচিসহ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে তরুন প্রজন্মের অধিকাংশ শিশুরাই অপুষ্ঠির শিকার হচ্ছে। যার সর্বশেষ পরিনতি হচ্ছে বখাটে হচ্ছে, পিতা-মাতা ও শিক্ষকা/শিক্ষিকাদের অবাধ্য হচ্ছে এবং পুরো জাতি একটি মেধাবিহীন আগামী প্রজন্ম পাচ্ছে। যার কারনে একটি মহল মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে জঙ্গিসহ বিপথগামীতে ধাবিত করছে। তাই তরুন প্রজন্মকে এ সমস্ত মানব বিধ্বংসী অপরাধী কর্মকান্ড থেকে বাঁচাতে হলে খাদ্যে ভেজাল বিরোধী আন্দোলনে তরুন প্রজন্মকে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কর্মক্ষম, মেধাবি জাতি পাওয়া কঠিন হবে। যার খেসারত পুরো জাতিকে বহন করতে হবে। কারন ফাস্ট ফুডের নামে জাঙ্কফুড, ভেজাল খাবারের কারনে স্থুলাকার শরীর, খিটকিটে মেজাজ, ক্যান্সার, কিডনী, বহুমুত্র, মুত্রনালির সমস্যা, জন্ডিস, হাপানী, গ্যাস্টিক সহ নানা রোগে অধিকাংশ লোকজনই আক্রান্ত। ২৯ সেপ্টেম্বর ’১৬ এপ্রিল নগরীর বাকলিয়া মেরনসান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে প্রচারনা কর্মসুচির উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত মন্তব্য করেন। মেরনসান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠা অধ্যক্ষ ডঃ মোহাম্মদ সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রচারনা কর্মসুচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। ক্যাব বাকলিয়া থানা সভাপতি এ এম তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালণায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান। আলোচনায় অংশনেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন সম্পাদক মুহাম্মদ জানে আলম, চান্দগাঁও থানা সাধারন সম্পাদক ইসমাইল ফারুকী, ক্যাব নেতা আবু ইউনুস, ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি ও যুব সংগঠক চৌধুরী কে এন এম রিয়াদ, বাকলিয়া পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জমান, যুব গ্রুপের সাধারন সম্পাদক সাহাব উদ্দীন সাইফু প্রমুখ। ক্যাব ডিপিও শম্পা কে নাহার ও জহুরুল ইসলাম সভায় মুল প্রতিপাদ্য বিষয় মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন।

বক্তাগন বলেন দেশে খাদ্য, পণ্য যা-ই বাজারে ভোক্তাদের কাছে আসছে সবকিছুতেই নকল, ভেজালের ছড়াছড়ি। নিরাপদ খাদ্য, খাদ্যে ভেজাল, মাছ মাংশে বিভিন্ন ক্যামিকেল ও ফরমালিন মিশ্রণ, সবজিতে বিষাক্ত সার, কীটনাশক, ক্যামিকেল দিয়ে ফলমুল পাকানো, মুরগীর খাদ্যে ভারীধাতু মিশ্রণসহ মানব বিধ্বংসী কর্মকান্ড চলমান থাকলেও সমাজের একটি বড় অংশ নিরব। খাদ্যে ভেজালের কারনে অকালে ক্যান্সার, কিডনী বিকল, স্থুল স্বাস্থ্য, হ্দৃরোগ, মুত্রনালি ও পাকস্থলীর পীড়াসহ নানা রকমের মানব ঘাতক রোগে পুরো জাতি যেন রোগাক্রান্ত। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বদলৌতে বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষই এখন নকল ও ভেজালের এ সমস্ত খবর জানছে। তবে খাদ্যে ভেজালকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীরা যেভাবে সংগঠিত ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট সেভাবে ভোক্তারা সংগঠিত নয় বিধায় এ সমস্ত ব্যবসায়ীরা মানুষকে জিম্মি করে এ ধরনের অপরাধী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। আর ছাত্র ও যুব সমাজকে দেশ ও জাতিগঠনমুলক কাজের পাশাপাশি খাদ্য, পণ্যে নকল, ভেজাল, গ্রাহক হয়রানি, প্রতারনা, নিরাপদ খাদ্য, মাছ-মাংশে সার, কীটনাশক, ফরমালিন মিশ্রণ এবং ক্যামিকেল দিয়ে ফলমুল পাকানো বন্ধে সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা গেলে জাতি খাদ্যে ভেজালের হাত থেকে রক্ষা পাবে। তাই এখন সময় এসেছে জেগে উঠার এবং তৃণমূল পর্যায়সহ সকল স্তরে অনিরাপদ খাদ্য, ফাস্ট ফুডের নামে জাঙ্ক ফুড, নকল, খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠিন সামাজিক প্রতিরোধ ও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা।