মেইন ম্যেনু

সকল অশান্তি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে ইসলামই একমাত্র সমাধান

আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, সমাজে চলমান অশান্তি দুর করতে গিয়ে মানুষ বিভিন্ন জাগতিক মতবাদ গ্রহণ করছে। কিন্তু এতে সমাজের অশান্তি না কমে বরং বেড়েই চলেছে। আসলে আল্লাহপ্রদত্ত জীবনব্যবস্থা ইসলামকে গ্রহণ না করলে কোন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। একমাত্র ইসলামই পারে দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্যা সমাধান করে দুনিয়াকে শান্তিময় বাসযোগ্য করে তুলতে।

দাওয়াতুন্নবী স. উপলক্ষে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে শেষদিনে প্রধান অতিথির বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন। দাওয়াতুন্নবী স. মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তাফসীর মাহফিলে আরো বয়ান পেশ করেন, চরমোনাই কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষাবোর্ডের মহাসচিব আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী পীল সাহেব কারীশপুর, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, জামি’আ কারীমিয়া আরাবিয়ার মুহাদ্দিস মুফতী মুহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, জামি’আ তা’লিমিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাফিজুর রহমান ছিদ্দিক (কুয়াকাটা), তিলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারী শায়খ আহমদ বিন ইউসুফ আলআযহারী। মাহফিলে দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল পরিচালনায় ছিলেন নগর সেক্রেটারী মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকমাহফিল। সার্বিক তত্ত্ববধানে ছিলেন আলহাজ্ব আবদুল আলতাফ হোসেন ও মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মুহা. আব্দুর রহমান।

ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জনতার দৃষ্টি ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনের দিকে। রাজধানীর সকল এলাকা থেকে আছর নামাযের আগেই হাজার হাজার উৎসুক ইসলামপ্রিয় জনতা মাহফিলস্থলে পৌঁছতে থাকে। মাগরিবের নামাজের সময় জনতার উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়। রাত ৯.৩০ মিনিটে যখন পীর সাহেব চরমোনাই মঞ্চে উঠেন তখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে তিল ধারণের ঠাই ছিল না। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আল্লাহ আল্লাহ জিকিরে মুখরিত করে তোলেন লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

পীল সাহেব চরমোনাই সাহেব বলেন, ইসলাম শুধু ব্যক্তি জীবনে পালন করা কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের নাম নয়। মানুষের জৈবিক যত চাহিদা রয়েছে সবকিছুর দিকনির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতিসহ সকল বিষয়ে অনুসরণীয় আদর্শের নাম হলো ইসলাম। কোন মানুষ যদি পরিপূর্ণ ইসলামী জীবনাচার মেনে চলে, সে পরিণত হয় একজন আদর্শ মানুষে। তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্র যদি ইসলাম অনুযায়ী পরিচালিত হয়, সেই রাষ্ট্রও হবে বিশ্বের মধ্যে মডেল। তিনি সূরা আসরের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহতায়ালা ঈমানদার, সালেহীন, সত্যবাদী ও ধৈর্য্যধারনকারী ছাড়া সকল মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই তিনি সকলকে দেশ ও জাতির স্বার্থে ইসলামের সুমহান আদর্শের ছায়াতলে সমবেত হবার জন্য আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা প্রকৃত মানুষ গড়ার কোন উদ্যোগ নেই। মানুষ নৈতিকতা হারিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

পীর সাহেব চরমোনাই সংবিধানের মুলনীতিতে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুন;স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষ নৈতিকতা হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনিত। এমতাবস্থায় শরীয়তের অলঙ্ঘনীয় পর্দার বিরুদ্ধে আইনটি বাতিল করার দাবি জানান।

তিনি সম্প্রতি দেশব্যাপী ইভটিজিং-এর ব্যাপকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইসলাম যেখানে নারী-পুরুষের পোশাক-পরিচ্ছদ-এর ব্যপারে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দিয়েছে সেখানে উচ্চ আদালত কর্তৃক মহিলাদের বোরকা পরার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইভটিজিং করতে বখাটেদের উসকে দিয়েছে।

তিনি বলেন টিভি, সিনেমা ও মিডিয়ায় নারীদেহকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার ও নগ্নতানির্ভর সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ না হলে ইভটিজিং বন্ধে কোন আইন কাজে আসবে না। তিনি শাসকদেরকে দেশ, জনগণ ও জনগণের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় কাজ করার আহবান জানান।