মেইন ম্যেনু

সকালে সুস্থ, সন্ধ্যায় পঙ্গু

ওরা তিন ভাই। ছোটজনের বয়স এক, তার পরের জনের ৯ বড়জনের বয়স ১৩ বছর। দিনের আলোয় ওদের যারা দেখবেন রাতে তাদের দেখলে রীতিমতো চমকে উঠতে হবে। কারণ দিনের আলো ফুরালেই এই শিশুরা পঙ্গু হয়ে যায়। অথচ দিনের বেলা এরা স্বাভাবিক শিশুর মতোই পড়াশোনা করে, খেলে বেড়ায়।

এটা কোনো সিনেমার ঘটনা নয়। পাকিস্তানের কোয়েটা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মিয়ান কুন্ডি নামে একটা ছোট্ট গ্রাম। শোয়েব, রশিদ ও ইলিয়াস- এই তিন ভাইয়ের অবস্থার সঙ্গে গ্রামের সবাই পরিচিত। ওরা তিনজনই এক বিরল রোগে আক্রান্ত। আর এই রোগের বিষয়ে চিকিৎসকদের কাছে এখনো কোনো সঠিক তথ্য নেই।

অবশ্য এই তিনজন ছাড়া বাকি ভাই-বোনেদের এই সমস্যা নেই বলেই জানিয়েছেন শিশুদের বাবা হাশিম। কোয়েটা তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা প্রহরীর হিসেবে কর্মরত হাশিম আরো জানিয়েছেন, এটা কোনো অভ্যাসগত বিষয় নয়। বরং জন্মের পর থেকেই এই অদ্ভুত সমস্যা দেখা গিয়েছিল তার তিন সন্তানের শরীরে। কিন্তু গ্রামবাসীরা যখন এই সমস্যার কথা জানতে পারেন, তখন অবাক হয়েছিলেন তারা। ওদের তিনজনের নামও দিয়েছিলেন ‘সৌর শিশু’।

এই তিন পুত্র ছাড়া হাশিমের আরো তিন ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তাদের অবশ্য এ রোগ নেই।

হাশিম জানান, তার এই তিন ছেলের মধ্যে বড় দুজন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। তারা দুজনই পরিশ্রমী। স্কুল থেকে ফেরার পর তার ক্রিকেট খেলে। কখনো কখনো তারা বাবাকে কৃষিকাজে সহায়তা করে। ওরা কখনোই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করে না।

সন্ধ্যার পরপর যে দেহ থেকে প্রাণশক্তি চলে যাবে এ বিষয়টি রশিদ ও ইলিয়াস বুঝতে পারে। তাই সন্ধ্যার আগেই তারা বিছানায় চলে যায়।

হাশিম বলেন, ‘তারা জানে এটা ঘটবে। তাই তারা সূর্যাস্তের দিকে খেয়াল রাখে। সূযাস্তের সময় যে তাদের বিছানায় যেতে হবে এ বিষয়ে তাদের দেহ ও মন প্রশিক্ষণ পেয়ে গেছে।’

হাশিমের এই তিন ছেলের চিকিৎসার জন্য ২৭ জন পাকিস্তানি ও ১৩ জন আন্তর্জাতিক সদস্যের সমন্বয়ে একটি চিকিৎসা বোর্ড গঠণ করা হয়েছে। এই বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন পাকিস্তান ইনিস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সের প্রধান ডা. জাভেদ আকরাম। তিনি বলেন, এ ধরণের রোগ বিশ্বে এটাই প্রথম। ‘এটা মেডিক্যাল সায়েন্সের

হিসাব-নিকেশকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।’

তবে ডা. জাভেদ জানিয়েছেন, এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব। তবে সবার আগে রোগটিকে সনাক্ত করতে হবে। এই জন্যই এখন তিন শিশুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।