মেইন ম্যেনু

সঙ্কটে আন্দামানের আদিবাসীরা

গোটা বিশ্বজুরেই আদিবাসীরা আজ সংখ্যালঘু হিসেবে চাপের মুখে। এমন একটি দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে সংখ্যালঘু আদিবাসী সম্প্রদায় মুক্ত স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। ভয় আর ত্রাসের বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক লড়াইয়ের এই অসম যুদ্ধক্ষেত্রে অনিবার্যভাবেই আদিবাসীরা মার খাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক আদিবাসী গোষ্ঠির বাস বৃহত গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে। দেশটির বিগত কংগ্রেস ও বর্তমান বিজেপি সরকার উভয় দেশের উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছিলেন। বহুজাতিক কোম্পানির কাছে বাধা ভারত সরকার বরাবরের মতই জঙ্গল উজার করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে খনিগুলো তুলে দিতে চাইছে। কিন্তু একবারও তারা ওই জঙ্গলকে কেন্দ্র করে শত বছর ধরে বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোর কথা একটুও ভাবছে না ভারত সরকার। আর তাইতো বাধ্য হয়ে নিজেদের জঙ্গল, মানুষ ও খনি রক্ষার্থে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসী ও আদিবাসী সমর্থিত মানুষগুলো।

জঙ্গল উজার করে উন্নয়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভারত সরকার আন্দামান নিকোবার দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসী উচ্ছেদ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। অথচ এই আন্দামানেই শতাধিক বছর ধরে বাস করছে জারাওয়া আদিবাসী গোষ্ঠি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কড়া প্রহরার মধ্যে তারা নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে তীর ধনুক হাতে শিকারের জন্য ঘুরে বেড়ায়। পৃথিবীর অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মতো জারাওয়া সম্প্রদায় নিজ সম্প্রদায়ের বাহিরের মানুষের সঙ্গে সচরাচর মেশে না। কিন্তু ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন ঘোষণা দিলেন যে, তার দেশের সেনাবাহিনী, বাণিজ্য এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য আন্দামান নিকোবার দ্বীপপুঞ্জকে কাজে লাগানো হবে, তখন থেকেই মূলত আন্দামানের জারাওয়াদের কপালে দুর্ভোগের শুরু।

ভারতীয় পরিবেশবাদী গ্রুপ কালপাবরিক্সের কর্মকর্তা পঙ্কজ সেকসারিয়া এবিষয়ে নিরেট বক্তব্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে ওঠে আসে যে, ‘এই দ্বীপগুলো খুব নাজুক এবং ইন্দোনেশিয়ার আচেহ উপকূলের নিকটবর্তী আগ্নেয়গিরি সংক্রান্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এটি। সবকিছুর বাইরে, এটা আদিবাসী মানুষের বাসস্থান। এটা তাদেরই ভূমি, যার সঙ্গে তাদের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। পর্যটন নিয়েও আমরা চিন্তা করছি কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আদিবাসীদের সঙ্গে অন্যান্য মানুষের মিশ্রন কখনই ভালো ফলাফল বয়ে আনেনি, উল্টো তাদের জন্য খারাপ ফলাফল বয়ে আনবে।’

andaman2ভারতীয় মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে নয়াদিল্লি সরকারের অনেক পরিকল্পনাই আছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো পর্যটন। যে কারণে মোদি সরকার গত এক বছর ধরে আন্দামান নিকোবারের উন্নয়ন প্রশ্নে অনেক চাপ প্রয়োগ করে আসছে। আর প্রশাসনিক এই চাপটি যাচ্ছে আন্দামানের লেফট্যানেন্ট গর্ভণর এ.কে সিংহের উপর দিয়ে। তার বক্তব্য হলো, ‘গত বছর ধরে আমরা কেন্দ্রিয় সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পেয়ে আসছি। আমরা এমন উন্নয়ন চাই যাতে এই দ্বীপগুলোর মানুষদের স্বার্থরক্ষা হয়। আমরা খুব স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। কোনো কিছু গোপন করার নেই আমাদের।’

কিন্তু ভারত সরকার যতই বলুক তাদের গোপন করবার কিছু নেই, কিন্তু সাগরীয় অঞ্চল নিয়ে চীনের হস্তক্ষেপের পরই মূলত মোদি সরকারের টনক নড়ে সমুদ্র শাসনের ব্যাপারে। আর এ কারণেই মূলত আন্দামান নিকোবারে একটি নৌঘাটি তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার, যার পেছনেই থাকবে মূলত পর্যটন শিল্পের হাতছানি। ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ড, ঝাঢ়খন্ড এবং মনিপুরের আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের জঙ্গল বাঁচানোর প্রশ্নে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, কারণ তাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জঙ্গলে প্রবেশের ফলে একদিকে জঙ্গল যেমন ধ্বংস হয় তেমনি আদিবাসী জীবনও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।