মেইন ম্যেনু

সচ্ছলদের ১০ টাকা চালের কার্ড ফেরত দিতে মাইকিং

স্বচ্ছল হয়েও যারা হতদরিদ্রদের জন্য চালু হওয়া বিশেষ খাদ্য সহায়তা (১০ টাকা কেজি দরে চাল) নিচ্ছেন তাদেরকে অবিলম্বে কার্ড অবিলম্বে জমা দিতে মাইকিং করা হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত দুই দিন ধরে এই মাইকিং চলছে।

সোমবার ও মঙ্গলবার সদর উপজেলার রুহিয়া, রায়পুর, মোহাম্মদপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং করা হয়। এতে বলা হয়, এলাকার স্বচ্ছল ও অবস্থা সম্পন্ন কোন লোক ভুল বুঝিয়ে ১০ টাকা কেজির চালের কার্ড গ্রহণ করলে যেন ওই কার্ড স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ১০ কেজির চালের কার্ড প্রদানে অনেক ইউনিয়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। স্বচ্ছল কেউ কার্ড নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হবে। তার আগে মানুষকে সচেতন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর উপজেলার একনং রুহিয়া ইউনিয়নে দুই জন প্রবাসী, দুই জন হাসকিং মিল মালিক, চার জন সরকারি চাকরিজীবী এবং পাকাবাড়ি আছে-সব মিলিয়ে এমন শতাধিক ব্যক্তি হতদরিদ্রের কার্ড নিয়েছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রায় ৪০টি কার্ড সংশোধন করা হয়। তবে এখনও শতাধিক স্বচ্ছল ব্যক্তির নাম তালিকায় রয়েছে।

তিন নং আকচা ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ড মেম্বার জানান, তার ওয়ার্ডে হতদরিদ্রের কার্ড করতে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। দক্ষিণ ঠাকুরগাঁও গ্রামের মৃত কিরণ চন্দ্রের চার ছেলে ফুলবাবু, ধনেশ, অখিল ও কুলেশ^র হতদরিদ্রের কার্ড পেয়েছেন। অথচ তাদের সবার পাকাবাড়ি ও মোটর সাইকেল রয়েছে। একই গ্রামের মকলেসুর রহমানের ছেলে মশিউর রহমানের পাকাবাড়ি, দুইটি অটো চার্জার গাড়ি এবং মোটর সাইকেল রয়েছে। একইভাবে নূর মোহাম্মদের ছেলে আবুল, আফিজুল ও সলেমান অবস্থাসম্পন্ন হলেও তাদের সবার নামে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

তালিকা সংশোধনের জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের নোটিশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন চেয়ারম্যান তা সংশোধন করেনি। তাই খাদ্য বিভাগ আপাতত চাল বিতরণ স্থগিত রেখেছে।

জেলার প্রতিটি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সামনে অভিযোগ বাক্স বসানো হয়েছে এবং জনগণকে ১০ টাকা চালের কার্ডের ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।