মেইন ম্যেনু

সততার উজ্জল দৃষ্টান্ত: কুড়িয়ে পাওয়া আড়াই লাখ টাকা ফেরত দিলেন সেই কর্মচারী

কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মালিককে ফেরত দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কর্মচারী মো. শামীম শেখ মাসুম সততার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মঙ্গলবার নগর ভবনে কাউন্সিলর ও অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের হাত দিয়ে ওই টাকা এর মালিকের কাছে হস্তান্তর করেন মাসুম।

নগরীর বয়রা মুজগুন্নি আবাসিকের ১৭ নম্বর আনসার উদ্দিন সড়কের বাসিন্দা ও নতুন রাস্তা মোড়স্থ তানহা এন্টারপ্রাইজ বেকারির মালিক মো. হাবিবুর রহমান মালামাল কেনার জন্য গত ৯ ফেব্রুয়ারি মোটরসাইকেলে করে বড় বাজারে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে তিনি নগরীর কেডিএ নিউ মার্কেট সংলগ্ন লোয়ার যশোর রোডের শিল্পব্যাংকের সামনে পৌঁছালে তার টাকার ব্যাগ রাস্তায় পড়ে যায়। কিন্তু তিনি বিষয়টি টের পাননি। পরে অনেক খোঁজাখুজি করেও টাকার হদিস পাননি।

এদিকে ঘটনার ঠিক পর মুহূর্তেই একই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন কেসিসির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সেন্টারের সুপারভাইজার মো. শামীম শেখ মাসুম। তিনি পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার বান্ডিল বেরিয়ে থাকতে দেখে ব্যাগটি তুলে নেন।

এরপর তিনি টাকার মালিকের সন্ধান করলেও তা পাননি। টাকার বান্ডিলে সিল দেখে এবি ব্যাংক এবং স্টান্ডার্ড ব্যাংকে খোঁজ নেন। কিন্তু মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে মাসুমকে টাকার ব্যাগ উঠাতে দেখে কেউ কেউ তা নিজের বলে তার কাছ থেকে তা নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রমাণ দিতে না পারায় মাসুম তাদের টাকা দেননি।

এদিকে এ টাকা কাছে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ ভেবে মাসুম তা কেসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিসুর রহমান বিশ্বাসের বাসায় রেখে আসেন। ওই সময় মেয়র চীন সফরে থাকায় তার স্ত্রী টাকাগুলো সংরক্ষণ করেন। পরে মেয়রের চাচা আওয়ামী লীগ নেতা বুলু বিশ্বাস স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এরপরই মূল মালিক যোগাযোগ করেন।

মঙ্গলবার নগর ভবনে সাংবাদিক, কাউন্সিলর ও অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিসুর রহমান বিশ্বাস টাকার মালিক হাবিবুর রহমানকে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে আড়াই লাখ টাকা হস্তান্তর করেন। হারিয়ে যাওয়া টাকা ফেরত পেয়ে আবেগআপ্লুত কণ্ঠে হাবিবুর রহমান বলেন, ভালো লোকের হাতে পড়ায় তিনি টাকা ফেরত পেয়েছেন। আর টাকা ফেরত দিতে পেরে শেখ মাসুমও নিজেকে ভারমুক্ত বলে মনে করেন।

এ সময় হাবিবুর রহমান খুশি হয়ে শেখ মাসুমকে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেন। কিন্তু মাসুম টাকা গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক আবার তা মেয়রের হাত দিয়ে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ-এ-নূরে দান করে দেন।

মাসুমের এ সততায় সবাই তার প্রশংসা এবং এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন।