মেইন ম্যেনু

সন্তানদের হত্যা করে মাকে শায়েস্তা!

চোখের সামনে নিজ সন্তানের মৃত্যুর দৃশ্য কোন মায়েরই কাম্য নয়। তা সে মানব সন্তানই হোক আর কুকুরের সন্তানই হোক। চার বছরের আম্মু নামের কুকুরটি সকাল থেকেই আর্তচিৎকার করছে। ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর ৩নং কৃষ্ণনগর লেনে কুকুরটিকে প্রায়ই দেখা গেলেও কিন্তু কখনো তাকে এভাবে চিৎকার করতে দেখা যায়নি। আর কাঁদবেই না কেন, নিজের চোখের সামনে মৃত্যু হয়েছিল তার একটি নয় দুটি নয় আটটি সন্তানের। একজন স্থানীয়ের হাতে হত্যা হয়েছিল তার আটটি সস্তান। আজও কুকুরটি তারই সন্তানের কবরটি খুড়ছে যেখানে ১৫ দিন আগে কবর দেয়া হয়েছিল তার সন্তানদের।

হত্যাকারী প্রতিবেশির অভিযোগ ছিল কুকুরটি রাতের বেলা অনেক চিৎকার করতো যা তার সহ্য হতো না। এমনকি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ও কুকুরটি নাকি তাকে তাড়া করতো। তাই সে কুকুরটিকে উপযুক্ত শিক্ষা দেয়ার জন্য কুকুরটির বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। তিনি তার বাড়ির গার্ডের সহায়তায় কুকুরের বাচ্চাগুলোকে তার বাড়ির গেটের কাছে এনে বিষ দিয়ে মেরে ফেলে। এই কর্মকাণ্ড তার কাছে সঠিক বলে মনে হলেও চুপ করে বসে থাকতে পারলেন না তার প্রতিবেশিরা। প্রতিবেশিরা তার এই কর্মকান্ডের জন্য তার কাছে জবাব চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে তার এই কর্মকাণ্ডের জন্য তার শাস্তি হওয়া উচিত বলে এক প্রতিবেশি পাশের পুলিশ ষ্টেশনে তার নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পরে পুলিশ সেই বাড়ির গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুনাম্মা নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে। এক সঙ্গে আটটি কুকুরের মৃত্যুর জন্য সেই নারীর বিরুদ্ধে পশুপাখি নির্যাতন আইনের ১১ ধারায় এবং তাদের হত্যার জন্য ৪২৯ ধারায় মামলা করা হয়। প্রতিবেশিরা পুলিশকে জানায়, তিনি কুকুরটিকে অনত্র সরিয়ে দিয়ে আসতে পারতো বা তার বাচ্চাগুলোকে অনত্র পাঠিয়ে দিতে পারতো কিন্তু এভাবে নিষ্ঠুরভাবে তাদের মেরে ফেলা মোটেও উচিত হয়নি। তার কোনো অধিকার নেই এভাবে তাদের হত্যা করা। একদিন তার সঙ্গে কথা বলার সময় সে আমার সঙ্গে কুকুরটিকে নিয়ে তর্কে জড়িয়ে যায় এবং কুকুরটির সামনে তার বাচ্চাদের মেরে ফেলার কথাও বলে সে। তবে তিনি সত্যিই যে এই কাজ করবে তা আমরা ভাবতেও পারিনি। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।