মেইন ম্যেনু

“সন্তান হবার পর জানতে পারি সে আগেও বিয়ে করেছিল, এবং…”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমার বিয়ে হয়েছে আড়াই বছর হল। আমার একটি মেয়ে আছে ১ বছরের। আমার স্বামী আমার চেয়ে ১৫ বছরের বড়। আমার বয়স ২২ বছর। এইচ এস সি দেওয়ার পর আমার মা বাবা ঘটকের মাধ্যমে আমার বিয়ে দেয়। ছেলে একটা ডেভেলপার কোম্পানিতে ডিরেক্টরশীপ দেখায় এবং তারা দুই ভাই মিলে ব্যাবসা করে বলে জানায়। তার বড় ভাই কম্পানীর এমডি। ছেলে প্রতিষ্ঠিত বলে কোন রকম খোঁজ খবর ছাড়াই আমাকে দেখতে আসার এক সপ্তাহ পরই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়, কোন রকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই। তারা বলে এক মাস পর বউ তুলে নিবে। বিয়েতে আমার স্বামীর বড় দুই ভাই আর তাদের অফিসের কিছু লোক আসে। এছাড়া পরিবারের কেউ ছিলোনা। বিয়ের দিনই কাবিনের টাকা নিয়ে কাজীর সাথে তুমুল ঝগড়া করে। বিয়ের পর আমার স্বামীর পরিবারের কেউই আমার খোঁজ নেয়নি।

কিছুদিন পর আমার বাবা আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বলতে তাদের অফিসে যায় এবং তারা এক মাস পর উঠিয়ে নেওয়ার কথা বলে। এরপর থেকে নানা অযুহাতে তাঁরা সময় পিছাতে থাকে। এ সময় আমার স্বামী আমার বাপের বাড়িতেই থাকত। উঠিয়ে নেওয়ার কথা বললেই তারা যৌতুক চাইত। আমার বাবার আর্থিক অবস্থা ভালোনা আর তিনি যৌতুক দিবেন না। আমার স্বামী তখন এমন ভাব দেখায় যে সে আমাদের পক্ষে। বিয়ের আগে শর্ত ছিলো মেয়েকে পড়াতে হবে। আমি একটি প্রাইভেত ভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছি। বিয়ের পর কিছুদিন তারা আমার পড়াশোনার খরচ চালায়। বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামীর কাছে কিছু চাইলেই কেমন যেন করত। সবসময় তার কাছে টাকা নাই এমন ভাব করত। বলে কোম্পানীর সব টাকা তার ভাইয়ের কাছে থাকে। তাকে তার ভাই শুধু এক দুই হাজার টাকা সপ্তাহে দেয়। আমি আমার বাবা মাকে এসব বলি কিন্তু তারা আমার কথা বিশ্বাস করত না।

এক বছর পর আমি প্রেগন্যান্ট হই। তাই আমাকে উঠিয়ে দেওয়ার দিন ঠিক হয়। কিন্তু আমার ভাসুর দিন ঠিক করে আর কোন যোগাযোগ করেনা। কার্ডও বিলি হয়ে গিয়েছিলো। আমার বাবা কষ্ট করে আমাকে উঠিয়ে দেয়। অনুষ্ঠানে আমার শ্বশুর বাড়ির কেউ আসেনা ফলে আমার মা বাবাকে অনেক লজ্জায় পড়তে হয়। এর কিছু মাস পর আমার একটি মেয়ে হয়। তাকেও কেউ দেখতে আসেনি। সন্তান হবার পর থেকে যেন আমার স্বামীর নতুন রূপ দেখি। আমি তার চাচার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি সে আগেও একটি বিয়ে করেছিলো। সেখানে তার ডিভোর্স হয়েছে। আমি এসব আমার মা বাবাকে বলি। তখন আমার স্বামী সবার কাছে মিথ্যে বলার জন্য ক্ষমা চায়। এরপর আমি আবার পড়াশোনা শুরু করি। তখন আমার ভাসুর, আমার স্বামীকে কোম্পানী থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকে খরচ চাইলেই আমার সাথে ঝগড়া শুরু করত। তার ইনকামের কোনটাই আমাকে কোনদিন দেখায়নি। ঈদ এলে খরচ চাইলে বলত বাবার কাছ থেকে নিতে। আমার পরিবার নিয়ে গালমন্দ করতো এবং গায়ে হাত তুলতো। তখন আমার বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমার বাবাও আমাকে ঘরে রেখে কোন খরচ দিতোনা। আমার মেয়েটার খাবার খরচ আমি জোগাড় করতাম অনলাইনে কাজ করে। এভাবে আমার পড়াশোনা আবারও বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো।

তখন আমি আমার স্বামীর সাথে আবার যোগাযোগ করি। সে বলে, আমি তার বাড়ি চলে আসলে সে আমার খরচ দিবে। আসার পর কিছুদিন ভালো ব্যবহার করে। এরপর থেকে আবারও একই অবস্থা। সারাদিন বাপের বাড়ি থেকে কিছু দেয় নাই বলে অত্যাচার করে। আমার মা আবার বাপের বাড়ি ফিরে যেতে বলত কিন্তু আমি কাউকেই বিশ্বাস করতে পারিনা। আমার বাবা মা আমাকে আবার বিয়ে দিতে চায়, ডিভোর্স করিয়ে। কিন্তু আমি কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছিনা। সারাক্ষণ মানসিক চিন্তায় থাকি। এমন অবস্থায় আমি কি করতে পারি? আমি অনলাইনে ইনকাম করতাম। এর হিসেব আমার স্বামী চেয়েছে। আমার কিছুদিন যাবত ইনকাম নেই তাই অত্যাচার করে। আমি কোথায় যাবো বলতে পারেন? বাচ্চাটার কথাও ভাবি। তার কী হবে? একটা সমাধান দিবেন প্লিজ?”

পরামর্শ:
আপু, চিঠি পড়ে আমি যা বুঝতে পারছি, আপনি যথেষ্ট স্বাবলম্বী ও সাহসী একটি মেয়ে। আপনি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন। এই পরিস্থিতির মাঝেও লেখাপড়া করছেন ও অনলাইনে কাজ করছেন, আপনার মত এমন লড়াকু মেয়েদের জীবন কখনোই থেমে থাকে না। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও শংকিত হবেন না আপনি। মা বাবা যা বলছেন, সেটা মেনে নিন। সোজা ডিভোর্স নিয়ে ফেলুন। তবে হ্যাঁ, এই শর্তে ডিভোর্স নেবেন যে আপনি এখনোই আর দ্বিতীয় বিয়ে করবেন না। গ্রাজুয়েশন শেষ করবেন, বাচ্চাকে মানুষ করবেন। তারপর যদি কোন ভালো মানুষের খোঁজ পান, যিনি সন্তান সহ আপনাকে মেনে নেবেন, তাঁকেই বিয়ে করবেন। বিয়ে করার জন্য কোন জোর জবরদস্তি করা যাবে না। সেটা পরিবারকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিন। পরিবার আপনার সাথে চরম অন্যায় করেছে। আপনি এখন শর্ত দিলে তাঁরা মানতে বাধ্য।

আপু, এই ছেলেটি ফটকাবাজ। তাঁর পুরো পরিবার ফটকাবাজ টাইপের কারণ অনেক কিছুতেই অনেক ঘাপলা। সে আসলে তাঁর ভাইয়ের অধীনে চাকরি করতো অল্প বেতনে। পরিবারের মাঝেও তাঁর অবস্থায় বোঝা যায় বিয়েতে সবার অনুপস্থিতি দেখে। সম্ভবত পরিবার থেকে কোন অপরাধের কারণে তাঁকে বের করে দেয়া হয়েছিল, তাই সে ১ বছর ঘর জামাই ছিল। এমন প্রতারক ফটকাবাজ বাবার কাছ থেকে আপনার মেয়ে কিছুই পাবে না। উল্টো এমন পাবা নিজের মেয়েকে টাকার লোভে বিক্রি করে দিলেও আমি অবাক হবো না। সে আপনাকে নির্যাতন করে ও ভরণপোষণ দেয় না, ডিভোর্সের জন্য এই কারণ যথেষ্ট। নিজের কথা না হোক, মেয়ের কথা ভেবে হলেও এই লোকের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করুন। জীবনটা অনেক সুন্দর আপু, এই ফটকাবাজের সাথে থেকে জীবনটা হেলায় হারাবেন না। প্লিজ! সেই লোকটার কোন অধিকার নেই আপনার মত মেয়ের স্বামী হবার। আর যে নিজের সন্তানের কোন দায়িত্ব নেয় না, সে আবার কীসের বাবা।প্রিয়.কম