মেইন ম্যেনু

সফলতার কিছু জরুরী মাইন্ডসেট

চকোলেট ভালবাসেন না, এমন কি কেউ আছেন? আমরা সবাই চকোলেট খেতে পছন্দ করি এবং আমরা সবাই মিল্টন হার্শিকেও চিনি। কিন্তু আমরা একজন সাধারণ মানুষ থেকে বিখ্যাত চকোলেট কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার পেছনে তার জীবনের গল্প আমরা জানি না।

মিন্টন হার্শিকে একসময় কেউ চিনতেন না। কিন্তু তিনিই একসময় হয়ে ওঠেন আমেরিকার বিখ্যাত ম্যানুফেকচারার যিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন হার্শি চকোলেট কোম্পানি এবং সারা বিশ্বে জনপ্রিয় করেছেন চকোলেট ক্যান্ডিকে।

তিনি আলাদা আলাদা ৩টি চকোলেট ভেঞ্চার খোলেন প্রথমে। কিন্তু কোনটাই আশানুরূপ সফল হয় না। এরপর তিনি খোলেন হার্শি চকোলেট কোম্পানি এবং এটি তাকে একজন প্রথম সারির ব্যবসায়ী হিসেবে সামনে নিয়ে আসে। কীভাবে তিনি সফল হলেন? সফলতা অনেক বন্ধুর পথ পেরিয়ে আসে। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক জীবনে অনেক ভুল করি। আমরা যদি ভুল থেকে শিখি, তাহলে এই ভুলগুলোই দেখাতে পারে সফলতার পথ।

হার্শির জীবনের গল্প থেকে আসুন জেনে নিই কিভাবে সফল মানুষেরা জয় করেন ব্যর্থতাকে। কি কি মাইন্ডসেট বা দৃঢ় মনোভাব তাদেরকে সাহায্য করে।

১। কোন কিছুই অপরিবর্তনীয় নয়
“যখন আপনি একটি কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন অথবা মনে হচ্ছে সবকিছু আপনার প্রতিকূলে… যখন আর ১ মিনিটও ভার বহন করা অসহনীয় লাগছে… হাল ছাড়বেন না! কারণ এই পথ চলাই আপনার স্থান-কাল বদলে দেবে!” – রুমি

মিল্টন হার্শি স্কুল ড্রপ করেন ১৪ বছর বয়সে এবং পেন্সিল্ভেনিয়ার লেনচেস্টারে একজন মাস্টার কনফেকশনারের অধীনে কাজ শুরু করেন। ৪ বছর পর তিনি তার আন্টির কাছ থেকে ১৫০ ডলার ধার করেন এবং ফিলাডেলফিয়ায় নিজের ক্যান্ডি শপ খোলেন।

৫ বছর কঠিন পরিশ্রম করার পরও তেমন কোন সফলতা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি বন্ধ করে দেন দোকানটি। ডেনভারে বাবার কাছে যান এবং কনফেকশনারির একটি কাজ পান। ডেনভারেই তিনি আবিষ্কার করেন কেরামেল আর ফ্রেশ দুধ দিয়ে কীভাবে মজার মজার ক্যান্ডি তৈরি করা যায়।

আপনি যে কাজটি করতে চান তা এখনো ভাল করে করতে পারেন নি তার মানে এই নয় যে আর কখনো পারবেন না। একটি পথ অবলম্বন করে দেখেছেন, পারেন নি। এরমানে এই নয় যে অন্য সব পথ বন্ধ বা আপনি ব্যর্থ। অন্যভাবে আবার নতুন করে শুরু করুন। ব্যর্থতাকে সাময়িক বলে বিবেচনা করুন।

২। পরিস্থিতি হতাশাজনক কিন্তু আমি সেটা মোকাবেলা করব
“রত্ন যেমন ঘর্ষণ ছাড়া মসৃণ হয় না, মানুষও তেমনি পরীক্ষা ছাড়া নিখুঁত হয় না। -চাইনিজ প্রবাদ

আপনি যতই ব্যর্থতাকে অস্বীকার করুন না কেন তাতে এর যন্ত্রণা কমবে না। বরং ব্যর্থতাকে স্বীকার করে নিন। এর কারণগুলো বুঝুন, সেই অনুযায়ী শুধরে নিন সব কিছু এবং একই সাথে সামনের পথে এগিয়ে চলুন।

উদ্যোক্তা হার্শিও কিন্তু তাই করেছিলেন। তিনি সব কিছু আবার নতুন করে শুরু করেন। প্রথমে সিকাগোতে পরে নিউইয়র্কে নতুন করে দোকান খোলেন। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ব্যর্থ হন। কিন্তু তাতেও তিনি পিছু হটেন নি।

১৮৮৩ সালে, তিনি লেনচেস্টার কেরামেল কোম্পানি খোলেন পেনসিলভিয়ার লেনচেস্টারে। নিজেকে অনেক করে বোঝান যে এবার সফল হবেনই। এবার সত্যিই তার ক্যারামেলের নাম ছড়িয়ে পড়ল দেশব্যাপী। এবার শুরু হল তার সফলতার যাত্রা।

৩। আমি এখান থেকে কী শিখতে পারি?
“পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা এবং আরও ভাল পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা দুইটি ভিন্ন বিষয়” – জার্মান প্রবাদ

কোন কাজ শুরুর আগে অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করি যে কাজটা সফল হবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই এটাও সত্যি যে, ভুক হবেই। সফলতার পথ অনেক দীর্ঘ। আর সে পথে অনেক বাধাবিপত্তিই আসবে। সব কিছু থেকেই শেখার মানিসিকতা থাকতে হবে আপনার। নিরপেক্ষ হয়ে বিচার করতে হবে আপনি কি গ্রহণ করবেন, কি কি শিখবেন!

১৮৯৩ সালে মিল্টন হার্শি শিকাগোর বিশ্ব কলাম্বিয়ান এক্সপোজিশনে চকোলেট তৈরির আর্ট লক্ষ করেন সামনে থেকে। এই অভিজ্ঞতা তাকে হার্শি চকোলেট কোম্পানি খুলতে উৎসাহিত করে। যদিও সফলভাবেই চলছিল ক্যারামেলের ব্যবসাটি।

তিনি মিল্ক চকোলেট তৈরি করতে চাচ্ছিলেন নতুনভাবে। মিল্ক চকোলেট সে সময় সুইডিশদের বিশেষ দক্ষতা হিসেবে ধরা হত। হার্শি চাচ্ছিলেন নতুন কোন ফর্মূলায় প্রচুর পরিমাণে মিল্ক চকোলেট তৈরি করতে এবং সবার ক্রয়যোগ্য হিসেবে বাজারে আনতে।

১৯৯০ সালে মিল্টন হার্শি তার লেনচেস্টার ক্যারামেল কোম্পানি ১ মিলিয়ন ডলারে বিক্রী করে দিলেন যাতে তিনি হার্শি চকোলেট কোম্পানি খুলতে পারেন।

১৯০৫ সালে হার্শি চকোলেট কোম্পানি তার যাত্রা শুরু করে। হার্শি ৩ বছর সময় নিয়েছিলেন গবেষণা করতে কীভাবে তিনি চকোলেট তৈরি করবেন, তার নতুন কোর্সগুলো কী হবে এবং আধুনিক চকোলেট তৈরীর কী কী সুবিধা তার কোম্পানিতে থাকবে সেসব নিয়ে।

তার পরিশ্রম সফল হয়। দ্রুতই হার্শি চকোলেট কোম্পানির সফলতা অনেক দূর এগিয়ে যায়। কোম্পানিটি আগের কোম্পানিকে ছাড়িয়ে যায় দ্রুতই।.