মেইন ম্যেনু

সবকিছুকে ছাপিয়ে ম্যাককালামের বিদায়

উত্তেজনার শেষ নেই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে। উত্তেজনা থাকার অবশ্য যথাযথ কারণও আছে। নিউজিল্যান্ডের বিদায়ী অধিনায়ক ব্রেডন ম্যাককালামের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট যে এটা। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এই শেষবার মাঠে নামতে যাচ্ছেন ম্যাককালাম।

শনিবার হ্যাগলি ওভালে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে তিনটায় মুখোমুখি হচ্ছে দু’দল। টেস্টে দলের জয় পরাজয় নিয়ে কথা হচ্ছে, আলোচনা হচ্ছে দল নিয়ে, পিচ নিয়েও চলছে জল্পনা কল্পনা। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে ম্যাককালামের বিদায়। কেননা, শেষবারের মত মাঠে নামবেন তিনি।

সিরিজটার অঘোষিত নামই হয়ে গেছে ‘ম্যাককালামের বিদায়ী সিরিজ’। তাসমান সাগরের এপার ওপারের দুই প্রতিবেশীর প্রবল লড়াই, অথচ প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে তার অদৃশ্য উপস্থিতি। নিজের দল হোক আর প্রতিপক্ষ, সবার মুখেই কিউই অধিনায়কের স্তুতি।

ক্রিকেট উপভোগের মন্ত্র ছিল তাঁর ব্যাটিংয়ের প্রতিশব্দ। অধিনায়ক হয়ে এই ‘স্ম্যাশ অর ক্র্যাশ’ দর্শনকেই পুরো দলের খেলার ধরনে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। সেই ব্যাটসম্যান, অধিনায়ক ম্যাককালাম বিদায় নিচ্ছেন সব ধরণের ক্রিকেট থেকে।

এর আগে গত আট ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন এই হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান।

সিরিজের প্রথম টেস্টটি ছিল ম্যাককালামের ক্যারিয়ারে শততম টেস্ট। তাও বিরতিহীন। ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে কোনো বিরতি ছাড়া এক থেকে টানা একশ টেস্ট খেললেন এই কিউই ব্যাটসম্যান। যদিও মাইলফলকটা একদমই রাঙাতে পারেননি ম্যাককালাম। ওয়েলিংটনে নিজের দুই ইনিংসে রান করেছেন ০ ও ১০, দলও ম্যাচটা হেরে গেছে ইনিংস ও ৫২ রানের ব্যবধানে।

অধিনায়ককে বিদায়ী টেস্টে জয় উপহার দেওয়ার একটা তাড়না থাকছেই কিউই খেলোয়াড়দের। সংবাদ সম্মেলনে কিউই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট বললেন, ‘সত্যি বলতে, ওর শেষ টেস্ট—ভাবতেই খারাপ লাগছে। দলের সবার সঙ্গে ওর সম্পর্ক অসাধারণ। সবাই শেষবারের মতো ওর সঙ্গে মাঠে নামতে উন্মুখ।’

অধিনায়কের জন্য অকুণ্ঠ প্রশংসাও ঝরেছে বোল্টের কণ্ঠে, ‘একভাবে দেখলে খেলাটাকেই বদলে দিয়েছে ও। নিউজিল্যান্ডের মানুষ যে এখন ক্রিকেট নিয়ে, দল নিয়ে এত উচ্ছ্বসিত, সেটি ওর কারণেই। ওর খেলার ধরন, আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্বের কারণে। ওর অভাব অনেক বেশিই বোধ করব।’

নিউজিল্যান্ড ম্যাককালামকে নিয়ে ভাবাবেগে ভাসতে পারে, অস্ট্রেলিয়ার তো সেই দায় নেই। বরং স্টিভ স্মিথদের লক্ষ্য ভিন্ন—সিরিজ জিতে ওয়ানডের মতো টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েরও শীর্ষে ওঠা। তবে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের জন্য কিছু প্রশংসা বরাদ্দ থাকছে অজি অধিনায়কের, ‘ও দুর্দান্ত খেলোয়াড়। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য অনেক করেছে।’

ম্যাককালাম যদি এই টেস্টের আগে এক নম্বর আলোচ্য হন, তাহলে দুই নম্বরে থাকছে উইকেট। ওয়েলিংটনের চেয়েও বেশি সবুজ উইকেট চেয়েছেন নিউজিল্যান্ড কোচ মাইক হেসন। তবে চোট দুই দল থেকেই কেড়ে নিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুই পেসারকে। অস্ট্রেলিয়া পিটার সিডলকে পাচ্ছে না, নিউজিল্যান্ড পাচ্ছে না ডগ ব্রেসওয়েলকে।

শেষটা রাঙিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন তো থাকবেই, তার সঙ্গে সিরিজ বাঁচানোর দায়টা মিলেমিশে যাচ্ছে। ম্যাককালাম প্রেরণা খুঁজতে পারেন ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে এর আগের একমাত্র টেস্টটি থেকেই। যেটিতে নিউজিল্যান্ডের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর ১৯৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।