মেইন ম্যেনু

সৃষ্টপদে নিয়োগ নিয়ে আইনী জটিলতা: সব প্যানেল শিক্ষকরা নিয়োগ পাচ্ছেন না

সৃষ্টপদে নিয়োগ নিয়ে আইনী জটিলতা থাকায় সরকারি আদেশ সত্বেও সব প্যানেল শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না । সৃ্ষ্টপদটিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। আর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একটা মামলা আদালতে চলমান থাকায় প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে না বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

প্যানেলভুক্ত প্রার্থী রয়েছেন প্রায় ২৮ হাজার কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় ১৪ হাজারেরও কম নিয়োগ দেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন অফিসাররা।

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, সারা দেশে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২২ হাজার ৯২৫টিতে পঞ্চম পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব বিদ্যালয়ে চারজন সহকারী শিক্ষক ও একজন প্রধান শিক্ষক থাকবেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে এখন কিছু জটিলতা রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদায় উন্নীত হওয়ায় এখন নতুন নিয়োগ দিতে হলে তা পিএসসির মাধ্যমে দিতে হবে। আর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে যেসব সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্য হয়েছেন, উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় সেসব শিক্ষককেও পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। তাই আপাতত প্রধান শিক্ষকহীন বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষকদের প্রধানশিক্ষক পদে পদোন্নতি দিয়ে একটি করে সহকারি শিক্ষকের পদ শূন্য করাও যাচ্ছে না বলে মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়।

এদিকে দুই সপ্তাহে তিন রকম সিদ্ধান্ত ও আদেশ জারি করায় বিপাকে রয়েছেন প্যানেলভুক্ত শিক্ষকরা। তারা বলেছেন, তারা বুঝে উঠতে পারছেন না কী করবেন। তারা অভিযোগ করছেন প্যানেল শিক্ষক নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ নিয়োগের জন্য ঘুষ নিচ্ছেন। খবর পেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার সুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নিয়োগের বিধি-বিধান, প্রকৃত শূন্যপদ ও প্যানেল শিক্ষকদের বিষয়ে দেয়া আদালতের আদেশ এবং মাঠের বাস্তবতা এ সবকিছুর সমন্বয় করে একটি আদেশ দেয়ার মতো দূরদশী ও প্রাজ্ঞ কোনো আমলা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের আছে কি-না সন্দেহ। তাই ঘন ঘন আদেশ আর ঘন পাল্টানো চলছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো এক আদেশে জাতীয়করণ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে যে পঞ্চম পদ (আগে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন ছিলেন, এখন পাঁচজন) সৃষ্টি করা হয়েছে, সেটির হিসাব ধরেই প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আদেশে দিয়েছে।

নিদেশনার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর বলেছিলেন, নতুন আদেশের ফলে বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের প্রায় সবাই নিয়োগ পাবেন।

গত সপ্তাহে প্যানেলভুক্ত প্রার্থীরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি এ নিয়ে একজন আইনজীবী আইনি নোটিশ পাঠান।

এরপর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জেলা কর্মকর্তাদের কাছে নতুন নির্দেশনা পাঠায়।

উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্যানেলভুক্ত প্রায় ২৮ হাজার জনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু নতুন নতুন সমস্যা সামনে আসছে।

২০১০ সালের ১১ এপ্রিল রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৪২ হাজার ৬১১ জনকে নিয়োগের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়। এঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার জনকে নিয়োগ দেয় সরকার।

সবাইকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলে প্যানেল থেকে নিয়োগ দেওয়া বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপর নিয়োগবঞ্চিত ও প্যানেলভুক্ত প্রার্থীরা আদালতে যান। আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দেন।দৈনিক শিক্ষা