মেইন ম্যেনু

সব বিশ্ববিদ্যালয়েই ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা দেয়া হবে

দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই ফ্রি ওয়াইফাই দিতে চান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। পর্যায়ক্রমে এ সুবিধা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছড়িয়ে দেবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘অন্ততঃপক্ষে এই সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লাইব্রেরী পর্যায়ে যদি পৌঁছে দেয়া য়ায় তাহলে অনেক উপকার হবে। তবে তার আকাশচুম্বি কোনো পরিকল্পনা নেই।’ বাস্তব ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত নতুন এই প্রতিমন্ত্রী।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ৯০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। বিভিন্ন কাজের বিষয়ে ওই ৯০ দিনের মধ্যে একটি টার্গেট করা হবে। এরপর দেখবেন এ টার্গেটের কতটুকু অর্জন হলো।

ইউনিয়ন তথ্যযোগাযোগ কেন্দ্র শক্তিশালীকরণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাজ ত্বরান্বিত করা, ই-পোস্টাল তথা ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন, টেলিটক শক্তিশালীকরণ, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধ, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট আপডেট এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে তারানা হালিমের।

ওয়েবপেজ আপডেট সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, তার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমস্যা কিংবা অভিযোগ জনগণ সরাসরি ওয়েব পেইজে লিখে পাঠাবেন। সেই অভিযোগ কিংবা পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। অর্থাৎ এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরাসরি তার যোগাযোগ ঘটবে। কোনো মিডিয়া লাগবে না।

টেলিটক সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি নিজেও বর্তমানে অন্য একটি নেটওয়ার্কের সিম ব্যবহার করেন। তবে তিনি একটি টেলিটক সিম কিনবেন। ইতিমধ্যেই তার জন্য এটা কিনতে বলাও হয়েছে।

টেলিটককে তিনি অন্যান্য ফোন কোম্পানির সেবা মানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান। এ ক্ষেত্রে তিনি অফিস টাইম সরকারি পর্যায়ের মতো না করে অন্যান্য কোম্পানির মতো অফিস টাইম চালু করার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘টেলিটকের টাওয়ার সংখ্যা কম আছে। অর্থাৎ কম বিনিয়োগ নিয়ে যাত্রা করেছিল টেলিটক। সেখানে পিছিয়ে পড়েছে এ সংস্থাটি। পোস্টাল ও টেলিটক একসঙ্গে কাজ করলে টেলিটক এগিয়ে যাবে।’

তারানা বলেন, ‘এসব সেক্টরে যদি হুণ্ডি ব্যবসা না হয়, সবকিছু যদি বৈধভাবে হয় তাহলে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।’

লোকসানে থাকা ডাক বিভাগকে লাভজনক করার কথাও ভাবছেন নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ডাক বিভাগকে যদি কুরিয়ার সার্ভিসের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায় এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় তাহলে বতর্মানে যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চিঠি পোস্ট হয় না, সেই গ্যাপটা পূরণ করা যাবে। আর এভাবে কাজটি সম্পন্ন হলে আমার বিশ্বাস সরকারের বাকি মেয়াদেই ডাক বিভাগকে লাভজনক খাতে নিয়ে যেতে পারবো।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘১ হাজার ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ দ্রুততার সঙ্গে করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ১৮টি মেইল প্রসেসিং সেন্টার এবং ১১৮টি ভেহিকল (গাড়ি) ডাক পরিবহনের জন্য দেয়া যায় তাহলে ডাক বিভাগের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।’

মোবাইল ফোনে প্রতারণা রোধে টেকনিক্যাল মোবাইল টিম গঠনের পরিকল্পনা আছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে কল রেট মাত্র ২ টাকা এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে কল রেট ২০ থেকে ২৫ টাকা লাগে। এ বৈষম্য দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়টি সার্ক সচিবালয় দেখছে।’

মন্ত্রণালয়ের লোকজনের দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার হুশিয়ারি দিয়ে আবারো বললেন, ‘মন্ত্রণালয়ে যদি কেউ দুর্নীতি করে তাহলে তার জন্য মন্ত্রণালয়ের দরজা বন্ধ থাকবে।’