মেইন ম্যেনু

সমস্যায় জর্জরিত মালয়েশিয়ায় থাকা রোহিঙ্গা শিশুরা

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বাস করছে মিয়ানমারের প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র মাধ্যমে দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছিল তারা। ইউএনএইচসিআর’র একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পুনর্বাসন করা হচ্ছে তাদের। অনেকেই ইতিমধ্যে দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেও তাদের এখনো নেই কোনো আইনি স্বীকৃতি। আর এ কারণে সেখানে তাদের নানা ঝামেলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অনেক রোহিঙ্গা শিশুই মালয়েশিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও তাদের মা-বাবার নাগরিকত্বের সনদ না থাকায় ওই শিশুগুলোও পাচ্ছে না সেখানকার নাগরিক হিসেবে মর্যাদা। তাদের থাকতে হচ্ছে দেশহীন। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে কাজ করে স্থানীয় একটি প্রকল্প ‘বেরানি প্রোজেক্ট’। এই প্রকল্পের সদস্য ওয়েই বলেন, ‘পরিবারকে সহায়তা করতে অনেক রোহিঙ্গা শিশুকেই অল্প বয়সে বাধ্য হয়ে কাজে নামতে হয়।’

কুয়ালালামপুরের পাশ্ববর্তী উপশহর সেলায়াং-এর রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতা উস্তাজ রফিক বলেন, ‘বেশিরভাগ রোহিঙ্গার বসবাসের কোনো কাগজপত্র না থাকায় তাদের সার্বক্ষণিক আটক, গ্রেপ্তার এবং দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার ভয়ে থাকতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিশুদের নানা ধরনের হয়রানি, অপহরণ এবং আটকের ভয় থাকায় অনেক রোহিঙ্গা মা-বাবা তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে চায় না।’ এ কারণে ওই শিশুরা তাদের আশপাশের নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে সময় কাটায়। ফলে তারা বাইরে অন্যদের সাথে মেশার সুযোগ পায় না।

অনেক শিশু অবশ্য বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি স্কুলগুলোতে পড়ার সুযোগ পায়। এসব স্কুলে তাদের প্রধানত ধর্মীয় বিষয় এবং মালশিয়ার ভাষা শেখানো হয়। এমন একটি ভাসমান স্কুলের শিক্ষক নাজরি মাজলান জানান, শিশুদের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হচ্ছে, তাদের বাড়ি থেকে আনা যায় না। আমরা তাদের শেখাতে পারি যদি তাদের মা-বাবা তাদের বাড়ি থেকে স্কুলে পাঠায়। অন্যথায় আমাদের কিছু করার থাকে না।’