মেইন ম্যেনু

সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তার চাদর

আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নিজ নিজ কার্যালয়ে শর্ত সাপেক্ষে সমাবেশ করার অনুমতি দিলেও নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো রাজধানী। পোশাক পরিহিত র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সাদা পোশাকের ডিবি, এসবি, এনএসআই’র গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানীর স্পর্শকাতর জায়গা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় নজরদারিতে রেখেছে।

কেউ কর্মসূচির নামে বিশৃঙ্খলা করলে ছাড় দেয়া হবে না বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া হুঁশিয়ার করেছেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ ঘোষণা দিয়ে ডিএমপি বরাবর আবেদন করে। সেটি নাকচ হওয়ায় পর উভয় দলই নিজ নিজ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে- এই মর্মে আবেদন করে। আবেদন বিবেচনা ও সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়। উভয় দল শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চায়। এ কারণে উভয় দলকেই ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাদের এ কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে শেষ করা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিকল্পিত নিরাপত্তাবলয়ও গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি থানা পুলিশের সঙ্গে রিজার্ভ এবং আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশকেও মাঠে রাখা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে তৃতীয় কোন পক্ষ সুযোগ নিতে পারে। তা ছাড়া অনাকাঙ্খিত ঘটনাও যে ঘটবে না, তাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণেই মূলত এ নিরাপত্তা। আবার অহেতুক কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন সেজন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বাংলামোটর, মগবাজার, রমনা থানা ক্রসিং, বেইলি রোড-কাকরাইল, নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে ফকিরাপুল, চাঁনখারপুল, ফুলবাড়িয়া, মতিঝিল, গুলিস্তান, সদরঘাট, নিউমার্কেট, পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকা নিয়ে নতুন এ নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যেই মূলত: লোকজন সমাগম হবে দুটি পার্টি অফিস কেন্দ্রিক। সমাবেশস্থল এবং প্রতিটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পোশাক পরিহিত পুলিশকে রাখা হবে। থানা পুলিশের পেট্রোল পার্টি, নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দারাও থাকবে। এসব এলাকায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে যে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম, জলকামানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গোপনে সিসিটিভির মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ডিবি, এসবি, এনএসআই’র সাদা পোশাকের লোকজনও আগের চেয়ে ৩ গুণ বাড়ানো হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশের প্রধান কাজ দুস্কৃতকারীর গতিবিধি নজরদারি করা। ডিএমপির সদর দফতর থেকে মনিটরিং করা হবে। ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্ধারণ করে দেওয়া পথ দিয়েই প্রত্যেককে সমাবেশ স্থলে যেতে হবে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অলিগলিতে থানা পুলিশকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোন কোন এলাকায় চেকপোষ্টও বসানো হবে।

অন্যদিকে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, ‘রাজধানীতে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তাবলয় থাকবে। এ জন্য প্রতিটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সের বিশেষ ইউনিটসহ কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এ জন্য তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা গেটও তৈরি করা হতে পারে। তবে কতজন থাকবে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র বলছে, ওইসব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ থাকবে। সব মিলে রাজধানীতে এ দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৫ হাজার লোক কাজ করবে। যা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি বলে সূত্রটি জোর দিয়ে জানায়।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে, দুপুর থেকে মাগরিবের আযানের আগেই শেষ করতে হবে, মাইক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে, দলীয় কার্যালয়ের ভেতর ও সামনে সমাবেশ করতে হবে, যানজট তৈরি করা যাবে না, সড়ক অবরোধ করা যাবে না, ব্যানার ফেস্টুনের আড়ালে লাঠিসোঁটা আনা যাবে না, মিছিল করে সমাবেশে আসা যাবে না, পুলিশের দেওয়া চৌহদ্দির ভেতরে অবস্থান- এই ৮ টি শর্তে সমাবেশের অনুমতি মেলে দল দুটির।রাইজিংবিডি