মেইন ম্যেনু

সমুদ্রগর্ভ থেকে মিলল ৩৮০০ বছরের পুরনো ৩৭০০টি আলু

পৃথিবী অপার রহস্যের আধার। কিন্তু বিজ্ঞান নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছে সেই রহস্য ভেদ করার। সেই প্রক্রিয়ারই উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসাবে কানাডার প্যাসিফিক উপকূলে সমুদ্র তলদেশ থেকে আবিষ্কৃত হল ৩৮০০ বছরের পুরনো এক আলু-বাগান। শুধু তাই নয়, গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন ৩৭৬৮টি সেই সময়ের আলু, যেগুলি কোনওভাবে সমুদ্রগর্ভের পরিবেশে অবিকৃত রয়ে গিয়েছে।

বর্তমানে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার অন্তর্গত এই অঞ্চলে আর্কিওলজিস্ট তানজা হফম্যান এবং সিমন ফ্রেজারের নেতৃত্বাধীন একটি দল অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। তাঁরাই সন্ধান পেয়েছেন প্রাচীন এই আলু বাগানের। তাঁদের আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ নামক জার্নালের ডিসেম্বর সংখ্যায়।

বর্তমানে কাটজি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল এই এলাকায় প্রাচীন যুগে তাদেরই পূর্বপুরুষদের বসবাস ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সমুদ্র-তলদেশের যে অংশে এই আলু পাওয়া গিয়েছে, সেই অঞ্চলটিকে ঘিরে থাকা অংশে মিলেছে অনেক ছোট কিন্তু শক্ত পাথরের টুকরো। যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, আলু চাষের জমিটিকে সেই যুগে সুরক্ষিত রাখার জন্য পাথরের টুকরো দিয়ে ঘিরে রাখা হত। এ ছাড়াও কৃষিজমি হিসাবে চিহ্নিত অংশটিতে পাওয়া গিয়েছে অনেক সরু ছোট আকারের কাঠের টুকরোও। এগুলি আলু গাছের বেড়ে ওঠার অবলম্বন হিসেবে গাছের পাশে পাশে পুঁতে দেওয়া হতো বলেই মনে করছেন গবেষকরা।

এই প্রাচীন বাগানের আবিষ্কারকে গবেষকরা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করছেন। অত দিন আগেও যে কৃষি ব্যবস্থা এত উন্নত ছিল, এবং এত পরিকল্পিতভাবে কৃষিকার্য পরিচালনা করা হতো, তা বুঝতে পেরে গবেষকরা রীতিমতো বিস্মিত বোধ করছেন।
সমুদ্রগর্ভে যে সবজি পাওয়া গিয়েছে, তা মূলত ভারতীয় আলুরই একটি প্রজাতি। এগুলির স্থানীয় নাম ওয়াপাটো। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে চাষ হওয়া এই সবজি অত্যন্ত পুষ্টিকর বলে জানান গবেষকরা।