মেইন ম্যেনু

সরকারকে ‘সত্যের মুখোমুখি’ হতে বলল সাইট

বাংলাদেশে দুই বিদেশি হত্যা ও তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিতে বোমা হামলার ঘটনায় আইএস-এর দায় স্বীকারের তথ্য ‘সঠিক’ দাবি করে সরকারকে ‘সত্যের মুখোমুখি’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “এসব হামলার ঘটনায় আইএস-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার তীব্রভাবে অস্বীকার করে আসছে। আর আইএস-এর দাবির বিষয়টি আড়ালে রাখার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন সাইটের সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা করছে।”

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালির নাগরিক চেজারে তাভেল্লা ও ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুই ক্ষেত্রেই হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইএস এর ‘দায় স্বীকারের’ খবর দেয় ‘সাইট’।

এরপর গত ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার হোসাইনী দালানে আশুরার তাজিয়া মিছিলে প্রস্তুতির সময় বোমা হামলা হলে তার দায়ও আইএস স্বীকার করেছে বলে ‘সাইট’ দাবি করে।

বাংলাদেশ সরকার বলে আসছে, এসব ঘটনার সঙ্গে আইএস-এর সংশ্লিষ্টতা বা দায় স্বীকারের দাবির কোনো ভিত্তি গোয়েন্দারা খুঁজে পাননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, আইএসের নামে যে টুইট করা হয়েছে তা এসেছে বাংলাদেশ থেকেই।

এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারকে চাপে ফেলতে পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মুনিরুল গত ২৬ অক্টোবর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, তাভেল্লা হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য আইএসের ওয়েবসাইটে নেই। ‘এসব বার্তা’ তারা কখনো গোপনেও দেয় না।

“এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সাইট ইন্টিলিজেন্সের পরিচালক রিটা কাতজের সঙ্গে মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো উত্তর আমরা পাইনি।”

তবে আইএস-এর দায় স্বীকারের বিষয়ে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ ‘আগের অবস্থানেই’ রয়েছে জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষ বিভিন্নভাবে যাচাই করে নিশ্চিত হয়েই তারা ওই তথ্য প্রকাশ করেছে। আইএস- এর মিডিয়া চ্যানেলেও দায় স্বীকারের বিষয়টি এসেছে।

সাইট বলছে, “যারা সতর্ক করছে তাদের বিরুদ্ধে না গিয়ে সত্যের মুখোমুখি হয়ে আসল শত্রুদের দিকে মনোযোগ দিলেই বাংলাদেশ সরকার বেশি সুফল পাবে।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের ‘অস্বীকার’ এবং সাইটের ‘সুনাম নষ্টের’ চেষ্টায় বাস্তবতা বদলানো যাবে না। আর অনলাইনে জিহাদি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের ‘সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে’ যে সুনাম সাইট অর্জন করেছে, তা ‘নষ্টের চেষ্টাতেও’ কোনো ফল আসবে না।