মেইন ম্যেনু

সরকারি সংস্থা জমি দিচ্ছে না মেট্রোরেলকে!

জমি না পাওয়ায় বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল প্রকল্পের ডিপো নির্মাণ এবং কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণ করা যাচ্ছে না। কমলাপুরে ডিপো নির্মাণে ৫০ শতক জমি চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে তিনবার চিঠি দিয়েও সাড়া পায়নি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

এ নিয়ে সরকারের দুই সংস্থার মধ্যে একাধিকবার দেন দরবার হলেও কোন সুফল মেলেনি। তবে হাল ছাড়ছে না সেতু বিভাগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আমরা আশাবাদী। খুব শিগগিরই রেলপথ মন্ত্রণালয় আমাদের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

একইভাবে উত্তরা আবাসিক এলাকার তৃতীয় পর্যায়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকের কাছে চার হেক্টর জমি চেয়েও পাচ্ছে না সেতু বিভাগ। এ কারণে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হতে দেরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। কারণ জাপানি কোম্পানি জাইকার অর্থায়নে হচ্ছে এই প্রকল্প। আর জাইকার কাজের শর্তের মধ্যে যেসব বিষয়াধী ছিল তার মধ্যে ডিপো ও কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড অন্যতম। এসব আগে থেকে নির্ধারণ করা না হলে জাইকা কাজে দেরি করতে পারে।

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মেট্রোরেল সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো বাধাই থাকা উচিত নয়। যেসব সমস্যা ও বাধা রয়েছে খুব শিগগিরই সেগুলো নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেট্রোরেল প্রকল্প পরিচালকের কাছে গেলে তার দপ্তর থেকে বলা হয়-তিনি থাইল্যান্ড ভ্রমণে রয়েছেন। তবে এ প্রকল্পের অন্য কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি।

জমি দিতে রাজি না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন  বলেন, ‘প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করবো আমরা। আমাদের কাছে দেয়ার মতো জমি থাকলে তা দিয়ে দেবো’।

কিন্তু জামি চেয়ে একাধিকবার আপনাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু আপনার রাজি হচ্ছেন না- এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে তেমন একটা জানি না’।

জমি না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরা আদর্শ শহর প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না’।

ডিপো নির্মাণই প্রথম অগ্রাধিকার

সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটিকে আটটি ভাগে করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই (সিপি-১) আছে ডিপোর জমি উন্নয়ন। সিপি-২ এর অধীনে ডিপোয় ভবন নির্মাণ করা হবে। এ কাজ ২০১৬ সালের শেষ দিকে শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা ২০১৯ সালের মার্চে। সিপি-৩, ৪ ও ৫ এর অধীনে উত্তরা উত্তর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত মেট্রোরেলের লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এরপর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই মেট্রোরেলের ভৌত নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে শেষ হবে এ কাজ। সিপি-৬ অনুযায়ী, ফার্মগেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

সিপি-৬ এর কাজ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে। সিপি-৭ ও ৮ এর অধীনে পরিচালনা সিস্টেম ও ডিপোয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। এ দুইটি প্যাকেজের কাজ শেষ হবে ২০১৯ সালের মার্চে।

জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিটি প্যাকেজের কাজ শেষ হবে। এ অনুযায়ী ২০১৯ সালে উত্তরা থেকে আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেল আংশিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে। পরের বছর ২০২০ সালে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো লাইনটি চালু করা যাবে’।

অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু আগামী অক্টোবরে

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের অক্টোবরে শুরু হবে মেট্রোরেলের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। আর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পরীক্ষামূলক মেট্রোরেল চালু হবে। এরপর ২০২০ সালে পুরোপুরিভাবে চালু হবে মেট্রোরেল।

এখন ইউটিলিটি পরীক্ষার কাজ চলছে। মিরপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৬০টি পয়েন্টে চলবে এ পরীক্ষার কাজ, চলবে আরও অন্তত চার মাস। এর মাধ্যমে সড়ক খুঁড়ে ভেতরের গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন সংযোগের অবস্থান চিহ্নিত করা হচ্ছে- যাতে মেট্রোরেলের পাইলিংয়ের কাজ শুরুর আগেই ইউটিলিটি সংযোগগুলো সরিয়ে নেয়া যায়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মূল কাজ শুরু হবে।

দুই ধাপে আট প্যাকেজে ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেট্রোরেলের (লাইন-৬) নির্মাণ হবে। প্রথম ধাপে উত্তরা থেকে ফার্মগেট এবং দ্বিতীয় ধাপে ফার্মগেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মূল পথ নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দেবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। মেট্রোরেলের পুরোটাই হবে এলিভেটেড তথা ব্রিজের ওপর দিয়ে।

২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) ঢাকা মহানগরীতে তিনটি রেলভিত্তিক ও তিনটি বাসভিত্তিক গণপরিবহন রুটের সুপারিশ করে। এ সুপারিশের আলোকে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) বা মেট্রোলাইন-৬ অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। উত্তরা-মিরপুর-ফার্মগেট-মতিঝিল রুটটি মেট্রোরেলের লাইন-৬ হিসেবে চিহ্নিত।

মেট্রোরেল প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ তদারকি ও ক্রয়কাজে সহায়তার জন্য এনকেডিএম অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে একটি জাপানি কোম্পানি, যাদের দিল্লি মেট্রোরেল নির্মাণ কাজে তদারকির অভিজ্ঞতা রয়েছে।

যেখানে যেখানে থাকবে স্টেশন

মেট্রোরেলের স্টেশন হবে মোট ১৬টি। এগুলো হল: উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শাহবাগ, টিএসসি, জাতীয় প্রেসক্লাব এবং মতিঝিল। মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হবে। এটি প্রতি ঘণ্টায় দুই দিক থেকে ৬০ হাজার যাত্রী বহন করবে। প্রতি সাড়ে ৩ মিনিট অন্তর যাত্রীরা ট্রেন পাবেন। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পথে যাতায়াতে সময় লাগবে ৩৭ মিনিট। চলাচলকারী মোট ২৪টি ট্রেনের প্রতিটিতে ছয়টি বগি থাকবে। প্রতি ট্রেনে ৯৪২ যাত্রী বসে এবং ৭৫৪ জন দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।ঢাকাটাইমস