মেইন ম্যেনু

সরকার ও ইসি যেন যমজ ভাই : রিজভী

প্রথম দফা নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে সরকারি দলের লোকজন বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যমজ ভাইয়ের মতো কাজ করছে।’

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব বলেছেন।

রিজভী বলেন, ‘ভোটারবিহীন দখলবাজ সরকার ভোট, নির্বাচন, জনমত, জবাবদিহিতাসহ প্রকৃত গণতন্ত্রের সকল উপাদানকে নির্বাসিত করেছে। একক ক্ষমতার আতিশয্যে তাদের মধ্যে হিং¯্রতা ও আগ্রাসন দিন দিন বেড়েই চলছে। এ কারণেই আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে তারা আরেকটি দখলবাজি মহড়ার উৎকৃষ্ট মডেল বানাতে চায়।’

এ সময় আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেয়াসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি।

রিজভী বলেন, বাগেরহাটের চিতলমারীর সব ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ব্যাপক হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এছাড়া উপজেলার বারইপাড়া ইউনিয়ন, ডেমা, যাত্রাপুর, বেমরতাসব দেশের অনেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে দেয়নি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

বিএনপির এই নেতা বলেন, মনে হচ্ছে অঘোষিত সান্ধ্য আইন জারি করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী দেশ শাসন করছে। এখানে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বললে তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হয়, মিছিল সমাবেশ করলে গুলি চালানো হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বললে সম্পাদককে জেলে থাকতে হয়, রাজনৈতিক বন্দি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও জেলগেট থেকে তাকে বারবার গ্রেপ্তার করা হয়। আর এই সমস্ত নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা করা হয় পুলিশি ক্ষমতার যথেচ্ছ প্রয়োগের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, ‘একক কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে গণতন্ত্রের মুখোশটাকে মুখমন্ডলে সেঁটে রাখার জন্যই মাঝে মাঝে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে সরকার। এই সমস্ত নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার থাকে না। কারন ভোট গ্রহণের অনেক আগেই ব্যালট বাক্স ভরে যায়। বর্তমান ইউপি নির্বাচনেও মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার সময় থেকেই শুরু হয়েছে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর নির্বাচন বিনাশী চরিত্রের বিভৎস আত্মপ্রকাশ। ’

তিনি দাবি করে বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয়া হয়। অথচ মনোনয়ন পাওয়ার পরই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন বলে মনে করছেন।’

রিজভী বলেন, ‘আসন্ন ইউপি নির্বাচনটা সরকার নিজের মনের মাধুরী দিয়ে যে সাজিয়ে রেখেছেন এ বিষয়ে আর কারো সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না। সুতরাং জবরদখলকারী এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত মানুষ তার অধিকার ফিরে পাবে না। আর আন্দোলনই হলো এর একমাত্র পথ।