মেইন ম্যেনু

সরকার নয়, দেশ চালায় আল্লাহ: কাদের সিদ্দিকী

রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের কোনো ‘কৃতিত্ব নেই’ মন্তব্য করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, দেশ চলছে ‘আল্লাহর রহমতে’।

“দেশের ৯০ ভাগ মানুষের মধ্যে এই সরকারের প্রতি আস্থা নেই। তারপরও দেশ যে চলছে তা আল্লাহ চালাচ্ছেন। আর কিছুটা ভাল মানুষদের কল্যাণে। এখানে সরকারের কোনো কৃতিত্ব নেই।”
রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারাদেশের ‘বহু জায়গায়’ ঘুরে তিনি দেখেছেন, মানুষ ‘শান্তিতে নেই’, দেশের অবস্থা ‘খুবই খারাপ’।
একটি ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন’ দেওয়া হলে দেশের ৮০ শতাংশ সমস্যা দূর হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা এই নেতা।

৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পতনের আন্দোলনে গেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগে প্রাণহানির মধ্যে ‘শান্তির জন্য’ ঢাকার রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচিতে যান কাদের সিদ্দিকী।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার এবং প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার প্রতি ‘সংকট নিরসনে’ আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে ১৮ জানুয়ারি ওই কর্মসূচি শুরু করলেও দৃশ্যত কোনো পক্ষেরই সাড়া পাননি তিনি।

ওই কর্মসূচি শুরুর পর টানা ৩০৮ দিন ঘরের বাইরে থেকে ‘শান্তির জন্য’ দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন কাদের সিদ্দিকী। কর্মসূচির অবসানের ঘোষণা দিতেই মতিঝিলে দলের কার্যালয়ে মঙ্গলবার এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।

এই কর্মসূচিতে কারও সাড়া না পাওয়ার বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখার মত কিছু হয়নি। আমার ধারণা ছিল ২/৪ দিনের মধ্যে নেতাদের বোধদয় হবে, তারা আন্তরিকভাবে দেখবেন।

“দেশে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের বাড়িঘরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনেরও পরিবর্তন হয়েছে। এখন কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। আগের মত বিশ্বাসী দেশপ্রেমী মানুষ খুবই কম।”

মতিঝিলে অবস্থান করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, “সরকারের পুলিশ বাহিনী আমার বসার জন্য তৈরি শামিয়ানা, শীতের পোশাক, এমনকি বদনাটা পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে গেছে। আমাকে ফুটপাতেও ভালোভাবে থাকতে দেওয়া হয়নি। আমার মনে হয় সরকারের মানবিক গুণাবলির অভাব হয়েছে।”

নাশকতা ও পেট্রোল বোমায় মানুষ হত্যা এখন বন্ধ হলেও ‘মৃত্যুর মিছিল’ বন্ধ হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন কাদের সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, “বাসে আগুন দেওয়া, জ্বালাও পোড়াও বন্ধ হলেও মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হয়নি।দেশে যেভাবে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে, কবে জানি বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম স্থান অর্জন করে?

“ফাঁসির আদেশ হলে দেশে শান্তি আছে মনে করার কিছু নাই। ফাঁসি দিলে মনে হয় দেশে অশান্তি বিরাজ করছে।”

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাব পাওয়া কাদের সিদ্দিকী ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর প্রতিরোধে নেমেছিলেন। তাতে সফল না হয়ে পাড়ি জমান ভারতে। এরপর ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন।

ফেরার পর আওয়ামী লীগে যোগ দেন কাদের সিদ্দিকী। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ নামে নতুন দল গঠন করেন তিনি।

গত কয়েক বছরে স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী দল জামায়াত এবং তাদের জোট সঙ্গী বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগের মধ্যে কাদের সিদ্দিকীর সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে তার ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, “একজন মুক্তিযোদ্ধার রাজাকার হওয়ার শখ জেগেছে।”

সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের ডাক দিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অবরোধ হরতাল দিয়েছিলেন, কিন্তু কিছুই পাননি। জনগণ তাকে অবরোধ প্রত্যাহার করার সুযোগও দেয়নি।”

‘জাতিকে ঐক্যবদ্ধ’ করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন “আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, আগুন দিয়ে যারা মানুষ পুড়িয়েছে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমরা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি করেছিলাম।

“আমাকে পছন্দ না হলে ত্যাগ করুন। জাতির সমস্যা সমাধানের জন্য যার সাথে ইচ্ছা আলোচনা করুন । তা না হলে জনগণ আপনাকে সেই সময়টুকু দেবে না।”