মেইন ম্যেনু

সরকার প্রধানই নির্বাচনবিধি ভাঙছে : বিএনপি

শাসক দলের মনোনয়ন পাওয়া একজনের প্রার্থিতা বাতিলের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার বাইরে গিয়ে আরেক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে তা সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করার মাধ্যমে সরকারপ্রধান নির্বাচনবিধি ভাঙছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এই ধরনের বিধিবহির্ভূত কাজের পর নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হবে, তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন যে প্রহসনের দিকে যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসনের সেই আশঙ্কাই প্রমাণিত হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শরীয়তপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমার পরও পরবর্তী সময়ে সেখানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রে ফারুক আহম্মেদ তালুকদারকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং অফিসারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিধি পরিপন্থি কাজ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেখানে প্রার্থীর বৈধতা সম্পর্কে স্পষ্ট করে বিধি ১২-তে উল্লেখ করা আছে যে, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাহাদের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বাক্ষরিত এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র থাকে যে, উক্ত প্রার্থীকে উক্ত দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শর্ত থাকে যে, কোনো রাজনৈতিক দল কোনো পৌরসভায় মেয়র পদে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না। দিলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় উক্ত দলের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।’

তিনি বলেন, বাতিল হওয়া একটি মনোনয়নপত্রের পর আরেকটিতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সই করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি হচ্ছেন সরকারের প্রধান নির্বাহী। তাহলে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত হয়ে সত্যিকার অর্থেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় নির্বাচন কমিশন তা পারছে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়া যে কত কঠিন, তার প্রমাণ আমরা দেখছি। স্বয়ং সরকারপ্রধানের হাত দিয়েই অনিয়মের সূচনা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে তার প্রাথমিক আলামত পাওয়া যাচ্ছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, ফেনীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থিতা বাতিলের পর এর বিরুদ্ধে আপিল করায় জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের বাসায় হামলা করেছে সরকার সমর্থকরা। তার বাড়ি ভাঙচুরের পাশপাশি দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপির কমিশনার প্রার্থীদের বাসায় গিয়ে গিয়ে অস্ত্র দেখিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বলা হচ্ছে। সারা দেশে এই অবস্থা চলছে।

বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণ ভোটে উৎসাহিত হবে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এই কমিশনের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, প্রত্যেকটি নির্বাচনেই চরমভাবে বেআইনি কার্যক্রম এবং কারচুপি হয়েছে। সিটি, উপজেলা, সবখানে একই অবস্থা। সেজন্য আস্থা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব ছিল সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, সহদফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, সহপ্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।