মেইন ম্যেনু

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরো ৪ কর্মকর্তাকে

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গচ্ছিত ৮০০ কোটি টাকা লুটের ঘটনায় ব্যাংকটির দুই নির্বাহী পরিচালক (ইডি) কে সরিয়ে দেয়ার আভাস পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার পরই এটি করা হতে পারে বলে ওই সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের মহা-ব্যবস্থাপককেও (জিএম) অব্যাহতি দেয়া হতে পারে।

এর আগে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। অব্যাহতি দেয়া হয় দুই ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকে।

এদিকে, টানা দুই দিনের ঘটনা প্রবাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। কেউ কোনো কথা বলতে চাচ্ছেন না। সবাই ভয়ে আছেন।

জানা গেছে, রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সরকার ঘঠিত তদন্ত কমিটিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভন্তরীণ কমিটি বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করছে। এতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কোনো দুর্বলতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রিজার্ভ হ্যাকিং যেসব বিভাগের দুর্বলতা রয়েছে ঐসব বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামী রোববার নতুন গভর্নর ফজলে কবির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদানের কথা রয়েছে। তিনি এসে এসব সিন্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে বুধবার রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানতে ও তদন্ত করতে সিআইডি কয়েকজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত বা আমাদের কোনো দুর্বলতা আছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এই তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে সত্য। সিআিইডি’র কয়েকজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন। তারা বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, কোনো হাই পাওয়ার অ্যান্টি ভাইরাসের কমতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা সেটাও দেখা হবে। আমাদের সিস্টেম ও অন্যান্য ব্যাংকের সিসটেমও পর্যালোচনা করছি আমরা। তা শিগগির তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

বিভিন্ন তদন্ত দলের কার্যক্রমের সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে শুভংকর বলেন, সরকারি তদন্ত কর্মকর্তারাও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করছে।

উল্লেখ, গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রিজার্ভের প্রায় ৮০০ কোটি টাকা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে লুট হয়। খবরটি জেনেও তা তা প্রকাশ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, জানানো হয়নি অর্থমন্ত্রীকেও। আর এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে মামলা করেন।