মেইন ম্যেনু

সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাজধানী

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরে যেকোন নাশকতা রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। রাজধানীর আবাসিক হোটেল, মেস, সংসদ সদস্যদের আবাস্থল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ রাজধানীর সর্বত্র বৃদ্ধি করা হয়েছে পুলিশ-র‌্যাবের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারী। সেই সঙ্গে কারাগার এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নজরদারীর মধ্যে রাখা হয়েছে জামিনপ্রাপ্ত বেশ কিছু ব্যক্তিকেও।

ফাঁসির রায় কার্যকর করতে কারাগার ঘিরে গত ১৫ দিন ধরেই কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরী করে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়। কারাফটকের সামনের রাস্তায় যান চলাচল সীমিত করে দেয়া হয়েছে। উচ্ছেদ করা হয়েছে আশপাশের সব অস্থায়ী দোকানও। র‌্যাব-পুলিশ ও কারা নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে রেখেছে কারাগারের চারপাশ। সাদা পোশাকেও বিপুল সংখ্যক পুলিশ, এসবি, ডিবির সদস্যরা রয়েছেন কারাগার ও কারাগারের আশপাশের এলাকায়। এ বিষয়ে সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বাংলামেইলকে জানান, আগে থেকেই কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরার করা হয়েছে। নতুন করে বিশেষ আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অন্য আরেকটি সূত্র জানায়, শুধু কারগারই নয় রাজধানীজুড়েই এই রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বৃদ্ধি করা হয়েছে পুলিশের চেকপোষ্ট, মোটর সাইকেল পেট্রোল, ফুট পেট্রোলসহ সাদা পোশাকের পুলিশও। র‌্যাব সদস্যদেরও অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় রাস্তায় বেশি দেখা যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্যদের আবাসস্থল ন্যাম ভবন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর আবাসিক হোটেল ও মেসগুলোর প্রতিও গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। এরআগে থেকেই রাজধানীতে জামায়াত-শিবির বিরোধী অভিযান শুরু করা হয়। জামায়াত-শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া জামিনে থাকা আসামিদের দিকেও নজর রাখছেন গোয়েন্দারা।

ডিএমপির উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে জানান, এই রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে যেকোন ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি স্কুলে অনুষ্ঠানে বলেছেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির রায় অকার্যকর করতে নানান কৌশলী দীর্ঘমেয়াদী নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে ফাঁসি কার্যকরের নিরাপত্তা নিয়ে বড় কোনো ঝুঁকি নেই। সারা দেশেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।