মেইন ম্যেনু

সহযোগীতায় ছিল দু’জন, ‘জবাই করেছি আমি’

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শহরের বাস টার্মিনাল থেকে রিজার্ভ ভাড়া করে সমিতি পাড়ার উদ্দ্যেশে নিয়ে গিয়েছিলেন এক টমটম চালককে। প্রতিমধ্যে ডায়বেটিকস পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছলে চালককে দাঁড়াতে বলে যাত্রীবেশী ৫ হত্যাকারি। গাড়ি থেকে নামার পর তারা দু’ জনের মধ্যে (তৌহিদ, জসিম) একজন রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধেছে আরেকজন তার শরীরটাকে ধরেছে, আমি গলা দিয়ে ছুরি চালিয়েছি। এ কথাগুলো সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে বলেছিলেন শহরের টমটম চালককে গলা কেটে চাঞ্চল্যকর হত্যার মূল আসামী আব্দুল হামিদ (২৩)।

শুক্রবার কক্সবাজার সদর থানায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে এসব কথা জানায় সে।

তার স্বীকাররোক্তিতে উঠে আসে আরো অনেক তথ্য, ছুরি দিয়ে জবাই করার পর মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে টমটমটি বিক্রি করার উদ্দ্যেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের গন্তব্যে। সেখানে টমটমের বিভিন্ন অংশ খুলে ১৬ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় এক ব্যক্তিকে। প্রতিজন ভাগ করে ৪ হাজার টাকা করে পেয়েছে তারা।

গতকাল শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, গত ১৮ আগষ্ট রাত সাড়ে ১১ টার সময় কক্সবাজার ডায়াবেটিস পয়েন্ট এলাকা থেকে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে নিহত টমটম চালক মোজাফ্ফর আহমদের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। নিহত হওয়ার ১০-১২ ঘন্টা পর তার স্বজনেরা সদর হাসপাতালের মর্গে থেকে সনাক্ত করে তাকে। পরে পরিচয় পাওয়া যায় নিহত মোজাফ্ফর আহমদ রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদিঘী এলাকার জহির আহমদের ছেলে।

এর পর সদর থানায় নিহতের পরিবারে পক্ষ থেকে ৪-৫ জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত নামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।

ওই মামলার ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় তদন্ত করে সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে এক নারী দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বৃহস্পতিবার রাতে একজনকে আটক করে। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে কক্সবাজার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মামলার আরো ২ আসামীকে আটক করে। টমটম ক্রয় করার অভিযোগে আরো এক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয় সদর থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় বাবুল নামে আরও একজন আসামী পলাতক রয়েছে জানান সদর থানার ওই কর্মকর্তা।

আটককৃতরা হলেন, রামু রশিদনগর পূর্ব খাদেমের পাড়া এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে মো. আব্দুল হামিদ (২৩), খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া শান্তিবাজার এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. তৌহিদ (২০), চকরিয়া বদরখালী সাতগলিয়া পাড়া এলাকার মোক্তার আহমদের ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন (২২) ও রশিদনগর পূর্ব খাদেমের পাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে জসিম উদ্দিন (২১)।

মামলার তদন্তকারী ও সদর থানার তদন্ত অফিসার বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী আরও জানান, টমটম চালক মোজাফ্ফরকে জবাই করে হত্যার ঘটনা তারা স্বীকার করেছেন। টমটম ছিনতাইয়ের উদ্দ্যোশে মোজাফ্ফরকে তারা গলাকেটে হত্যা করে। দীর্ঘদিন ধরে তারা সংবদ্ধ হয়ে টমটম ছিনতাই করে যাচ্ছে তারা। এমনকি আটককৃতরা পেশাদার টমটম ছিনতাইকারী বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এদিকে আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।