মেইন ম্যেনু

সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে দাড়ি কেটে ফেলছে জেএমবি সদস্যরা

সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে দাড়ি কেটে ফেলছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সদস্যরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাতে সহজেই তাদের চিহ্নিত করতে না পারে সেজন্যই এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা। এমনকি পাজামা-পাঞ্জাবির বদলে জিন্স টি-শার্ট পড়তেও নির্দেশনা রয়েছে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে টঙ্গির জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গ্রেফতার হওয়া জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের আমির মাহমুদুল হাসান তানভীর। বৃহস্পতিবার ভোরে টঙ্গির চেরাগআলী আউচনপাড়ার ৪৪ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার ডি-২ ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তানভীরকে। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় রংপুর অঞ্চলের জেএমবির সমন্বয়ক ও বেসরকারি প্রাইম মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আশিকুল আকবর আবেশ, যশোরের সরকারি এম এম কলেজের রসায়ন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শরীয়ত উল্লাহ ওরফে শুভ ও টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ছাত্র নাজমুস সাকিব ওরফে তাহমিদকে। জঙ্গি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এমন কর্মকর্তারাও বলছেন, জঙ্গিরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পাল্টায়। আগে দাড়ি-টুপি তাদের কমন পোশাক ছিলো। এখন সাংগঠনিকভাবেই দাড়ি-টুপি না পড়ার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। স্মার্ট ও আধুনিক তরুণদের মতো লেবাস নিয়ে চলাফেরা করে তারা। সম্প্রতি ডিএমপি সদর দফতরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকেও জঙ্গিদের নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ এর একটি দল উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টর থেকে জেএমবির দুই সদস্য সাগর ও রাশেদকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, যশোরের পাঠশালা কোচিং সেন্টারে তারা অবস্থান করতো। ওই কোচিং সেন্টার থেকেই জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। র‌্যাবের গোয়েন্দারা ওই কোচিং সেন্টারটি নজরদারি করতে গিয়ে টঙ্গির আউচপাড়ার নতুন এই আস্তানার সন্ধান পায়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর যশোরের ওই মেস থেকে দুই সদস্য টঙ্গির এই আস্তানায় এসে গা-ঢাকা দেয়। দুই মাস আগে এই বাসাটি মিথ্যে পরিচয়ে ভাড়া নেওয়া হয়েছিলো। মূলত তানভীর প্রশিক্ষক হিসেবে ওই আস্তানায় জঙ্গি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতো।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর জানিয়েছে, তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। সে যখন নবম শ্রেণিতে পড়ে তখন জেএমবি’র এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে এ সংগঠনের প্রতি অনুরুক্ত হয়। দীর্ঘদিন জেএমবি’র মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের বড় ভাইদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। সে এইচএসসি পাশ করার পর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। যশোরে অবস্থানের কারণে সংগঠনের বড় ভাইয়েরা তাকে দক্ষিণ অঞ্চল দেখাশুনার দায়িত্ব দেয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, সংগঠনের নির্দেশেই ২০১৪ সালের শেষের দিকে তানভীর ঢাকায় আসে। এসময় তার মুখে বড় দাড়ি ছিল। সংগঠনের সিদ্ধান্তে তারা একসঙ্গে সবাই দাড়ি কেটে ফেলে। তানভীর জানায়, বড় ভাইরা তাকে মিরপুর-১ এর সনি সিনেমা হলের পাশের একটি ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণে ভালো করায় তাকেই প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে বলে।

তানভীর আরও জানায়, মিরপুর-১ ছাড়া, মিরপুর-১০ সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৮-১০ জন করে প্রশিক্ষণ নিতো। তানভীর জানায়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করা হতো। তারপর বিভিন্ন গ্রুপের ওপর বিভিন্ন জনকে হত্যা বা কোপানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। জেএমবি’র মাধ্যমে সংগঠিত সাম্প্রতিককালের প্রায় সবকটি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে হাসান জড়িত ছিল বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

র‌্যাব সূত্র জানায়, হাসানের হাত ধরেই শুভ ও সাকিব জেএমবিতে যোগ দেয়। শুভ কম্পিউটার বিষয় দক্ষ হওয়ায় সে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করতো। আর সাকিব ঢাকায় হাসানের তত্ত্বাবধানে সামরিক এবং শারীরিক প্রশিক্ষণ নেয়।

সূত্র জানায়, ঢাকায় এক জঙ্গি বৈঠকে মেডিক্যাল ছাত্র আবেশের সঙ্গে হাসানের পরিচয় হয়। আবেশ জেএমবিতে যোগ দেওয়ার পর রংপুরের দায়িত্ব পায়। একই সঙ্গে সে জঙ্গি সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতো। যাতে কোনও অপারেশনে আহত হলে নিজেরাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারে।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য মতে তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা কার্যক্রম চলছে। এদের সহযোগীদেরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে।