মেইন ম্যেনু

সাত খুনের সাক্ষ্যগ্রহণ

‘সাংবাদিকদের বের করে দেয়া নিয়ে পিপির অনধিকার চর্চা’

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে সাংবাদিকদের এজলাসকক্ষ থেকে বের করে দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন মহল। আইনজ্ঞরা বলছেন, এজলাসকক্ষে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। এটা অনধিকার চর্চা হয়েছে। তবে কোনোভাবেই পিপি এ কথা বলতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার বলেও মত দেন আইনজ্ঞরা।

তারা বলেন, সাংবাদিকেরা থাকতে পারবে, না পারবে না, তা নিয়ে বলার কোনো অধিকার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির (পিপি) নেই। এক আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, এ নিয়ে ‘পিপি বলার কে’?

সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, এটা খুব অদ্ভুত ঘটনা। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় সাংবাদিকেরা থাকবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই স্বাভাবিক। সাংবাদিকেরা থাকতে পারবেন না—এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেয়ার অধিকার পিপির নেই। এটা সম্পূর্ণ অনধিকার চর্চা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে বিচারক বিশেষ কোনো কারণ বা যুক্তিতে এটা বলতে পারেন।

আর আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘পিপি বলার কে?’ তিনি বলেন, পিপি কেন এ ধরনের কথা বললেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ ধরনের মামলায় সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। বিচারক কোনো যুক্তি থেকে এটা বলতে পারেন।

আজ সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের দুটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এসময় সাংবাদিকদের এজলাসকক্ষে অবস্থান না করতে আদালতের নির্দেশনা আছে বলে জানান খোদ রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন। পরে পুলিশ সেখান থেকে সব সাংবাদিককে বের করে দেয়।

জানা গেছে, আদালতে বিচারক আসন গ্রহণের কিছু আগে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম চলাকালে বাদী, আসামি ও আইনজীবী ছাড়া আর কেউ এজলাসকক্ষে থাকতে পারবেন না বলে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। প্রধান আসামি নূর হোসেনের আইনজীবী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাও একই কথা বলেন।

পরে গণমাধ্যমকর্মীদের আদালতের এজলাসকক্ষ থেকে বের করে দেয় পুলিশ। সাংবাদিকেরা আদালতের এজলাসকক্ষের বাইরে অবস্থান করেন।