মেইন ম্যেনু

সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি

সাংবাদিক হত্যা: আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ

শামীম রেজা, জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা : জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের তারানিবাস গ্রামের সাংবাদিক মতিয়ার রহমান মেম্বার হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদেরকে রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করছেন না। আসামি গ্রেফতার করতে সাংবাদিক মতিয়ারের নিকট খরচ বাবদ মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা টাকা দাবী করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের তারানিবাস গ্রামের মৃত তৈয়ব আলী দফাদারের ছেলে মতিয়ার রহমান(৪৮) পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি হাসাদহ ইউনিয়নের পরিষদের নির্বাচিত ওয়ার্ড সদস্য। সাংবাদিক মতিয়ার রহমান গত ৫ জানুয়ারি সকালের দিকে বাস যোগে মহেশপুর থেকে চৌগাছা যাওয়ার পথে বাসের গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা কথা আছে বলে মহেশপুর বাথানগাছি মাঠের ভিতর নিয়ে তাকে দিনভর নির্যাতন করে টাকা পয়সা ও একটি মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়।

সাংবাদিক মতিয়ার রহমান বলেন,আমি গত ৫ জানুয়ারি সকালে মহেশপুর থেকে বাস যোগে চৌগাছা যাচ্ছিলাম। বাসটি মহেশপুর বেলে মাঠ নামক স্থানে পৌছানো মাত্র মহেশপুর মান্দারবাড়ীয়া গ্রামের শাহিনের নেতৃত্বে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত বাসের গতিরোধ করে আমার সাথে তাদের কথা আছে বলে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে মাঠের ভিতর একটি স্যালো ঘরে নিয়ে সেখানে আটকিয়ে আমাকে মারপিট করে ও হত্যার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবী করে। আমি প্রাণে বাঁচতে ভাই রবিউল ইসলামের মোবাইল ফোনে দুর্বৃত্তদের ফোন দিয়ে জানায় যে তাদের দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দিলে তারা আমাকে খুন করে লাশ গুম করে দেবে। দুর্বৃত্তরা আমার মুখে গামছা ঢুকিয়ে ও গলার সাথে শিকল বেঁধে রাত পর্যন্ত নির্যাতন চালাতে থাকে। সন্ধ্যার পর আমার ভাইরা ভাই গাফ্ফার বিকাশ এজেন্ট নম্বর ০১৮২২-৮১৪৫৮৬ এ পাঁচ হাজার টাকা পাঠালে তারা আমার নিকট থাকা নগদ ১২০০ টাকা,একটি ক্যামেরা,দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার পরিচয়পত্র ও একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আমাকে ছেড়ে দিলে আমি জীবনবাজী রেখে বাথানগাছি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হোসেনের বাড়ীতে গিয়ে উঠি।

এ সংবাদ মহেশপুর থানা পুলিশ জানতে পেরে সেখান থেকে আমাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্রে ভর্তি করেন। মহেশপুর আমার ঘটনার ব্যাপারে মামলা রেকর্ড করতে গিয়ে নানা ভাবে টালবাহানা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্মরনাপন্ন হয়ে মামলাটি দীর্ঘদিন পর রেকর্ড হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেফতারের ব্যাপারে কোন কার্যকরি ভুমিকা গ্রহণ করেননি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্মতা এসআই ফরিদ উদ্দিনের সাথে আলাপ করলে তিনি বার বার আমার নিকট আসামি ধরতে খরচ বাবদ টাকা পয়সা দাবী করে আসছেন। কিন্তু আমি টাকা জোগাড় করতে না পারাই তাকে কোন টাকা দিতে পারেনি। আশ্চার্যের ব্যাপার হচ্ছে মামলা রেকর্ড প্রায় এক মাস আগে হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত আসামিদেরকে গ্রেফতারের ব্যাপারে কোন তৎপরতা গ্রহণ করেননি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশপুর থানার এসআই ফরিদ উদ্দিন বলেন,আসামিদের গ্রেফতারের জন্য কয়েক দফায় অভিযান চালানো হয়েছে। আসামিদের বাড়ীতে না পাওয়ায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। আসামি ধরতে বাদীর নিকট টাকা দাবীর ঘটনাটি সঠিক নয়।