মেইন ম্যেনু

সাইফুর’স কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা লুটের ঘটনায় সাইফুর’স কোচিং সেন্টারের বানানো বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বুধবার সচিবালয়ে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, পরীক্ষার নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা খুবই সতর্ক। আমাদের বিভিন্ন বাহিনী অবস্থা মনিটর করছে, প্রশ্ন ফাঁস করে কেউ রেহাই পাবেন না। এটা পরিষ্কার কথা। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর আছে।

আগামী ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলার ad20160323143615সঙ্গে, নকলমুক্ত পরিবেশে যথা সময়ে পরীক্ষা শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। এ কনফিডেন্স (প্রত্যয়) আমাদের আছে। সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা শেষ করা জন্য সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁসের আশংকা একেবারেই নেই। তাই বলে আমরা আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগছি এমন নয়, আমরা আরো সিরিয়াস হয়েছি। নজরদারি অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। বিজি প্রেসের সংশ্লিষ্ট ও তাদের আত্মীয়-স্বজন আমাদের নজরদারিতে আছেন।

সভার শুরুতে মন্ত্রী সাইফুর’সের বিজ্ঞপনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাইফুরস নামে একটা বিখ্যাত কোচিং সেন্টার আছে। এই কোচিং সেন্টার একটা বিজ্ঞাপন দিয়েছে। সেই বিজ্ঞাপনে তারা বলেছে ভালো ইংরেজি না জানতে পারলে ভালো লেখাপড়া করতে পারবে না। এমনকি ভালো হ্যাকারও হতে পারবে না। দেখেন, হ্যাকার হওয়ার জন্যও তার কাছে গিয়ে পড়তে হবে! বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, এটা অবশ্যই বে-আইনি। এ ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে পারে না। আমরা তার (সাইফুর’স) বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নাহিদ বলেন, সাইফুর’স এই বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা ভালো চোর বানাতে চাইছে। এ রকম লোকের বিরুদ্ধে যদি আমরা স্বোচ্চার না হই তাহলে আমরা কী করে থাকব সমাজে প্রশ্ন রাখেন শিক্ষামন্ত্রী।

কোচিং সেন্টারগুলোর মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এরা এই রকম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এদের বিরুদ্ধে কখনও আমরা সহনশীল হতে পারি না। তারা আমাদের ছেলে-মেয়েদের প্রলোভন দেখাচ্ছেন ভালো ইংরেজি শিখলে ভালো চোর হতে পারবা, ভালো করে হ্যাকিং করতে পারবা। চুরি শেখানোর বিজ্ঞাপন দিয়ে বলেছে ভালো চোর বানাবে!

মন্দ কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, আমরা ছেলে-মেয়েদের প্রযুক্তি শেখাচ্ছি। তবে যদি ছেলে-মেয়েদের ভালো মানুষ না করতে পারি, তবে এই শিক্ষাটা খারাপও হতে পারে। এই প্রযুক্তি কার হাতে পড়ল, তা নির্ভর করবে। কারণ ভালো মানুষের হাতে পড়লে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাবে। আর খারাপ মানুষের হাতে পড়লে সে জনগণের ক্ষতি করে দিতে পারে।

সভায় শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন, সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, বিজি প্রেস, পুলিশ, র্যাব, ডিবির প্রতিনিধিরা উপস্থিতি ছিলেন।