মেইন ম্যেনু

সাইফ অন্যকে চুমু খেতেই পারে: কারিনা

বিয়ে-কেরিয়ার। দুটোকেই আলাদা করে দেখেন কারিনা কাপুর। শুধু তাই নয় বিয়ে ও কেরিয়োরে মধ্যে ব্যালান্স করে চলতেও ভালোবাসেন তিনি। ‘কি অ্যান্ড কা’ মুক্তির পর ভারতের একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারের এমনটাই জানালেন বেবো। কারিনা এও জানিয়েছেন, অভিনয়ের জন্য চাইলে তার স্বামী সাইফ আলীও কোন নারীকে চুম খেতে পারে। এতে তার কোন আপত্তি নেই।

সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল-

সকলেই মনে করছেন লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে সব রকম ধারণা পাল্টে দিতে পারে ‘কি অ্যান্ড কা’। আপনারও তাই মত?

কারিনা: দেখুন, ছবিটা ডকু-ড্রামা নয়। লিঙ্গসমতা নিয়েও নয়। আর বালকি একটা রোমান্টিক ছবি বানিয়েছেন, যার মোদ্দা কথা হল— একজন ছেলে আর একজন মেয়ের প্রেম। তাদের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। কিছু অমিল। সেগুলো নিয়েই তারা একটা এক্সপেরিমেন্ট করে। অনেকগুলো স্টিরিওটাইপ ভাঙে। ছবিতে একটা বার্তাও রয়েছে। তবে পুরোটাই বিনোদনকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে।

আপনিও তো অনেকগুলো স্টিরিওটাইপ ভেঙে দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির…।

কারিনা: কী রকম?

এই, কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ‘রেফিউজি’র মতো ছবি দিয়ে। বিয়ের পরেও চুটিয়ে অভিনয় করে যাচ্ছেন। স্টিরিওটাইপ ভাঙা হল না…?

কারিনা: বিয়ে তো প্রেমের চেয়ে আলাদা কিছু নয়! প্রেমের একটা পরিণতি বলা হয় বিয়েকে। একটা সামাজিক পরিণতি। আমি নিজের প্রেমটাকে সেই সামাজিক পরিণতি দিতে চেয়েছিলাম। তাই বিয়ে করেছি। করে তো কোনও দোষ করিনি, যে আমাকে এবার কেরিয়ারটা ছেড়ে দিতে হবে! বিয়ের সঙ্গে কেরিয়ারের সম্পর্কটাই বুঝি না! তাছাড়া ব্যক্তিগত জীবন আর কাজের জগৎটাকে আলাদা রাখতে জানি আমি। বাকিদের কথা বলতে পারব না। তাঁরা আলাদা ব্যক্তি। আমার ব্যক্তিত্ব তাঁদের সঙ্গে মিলবে না, সেটাই স্বাভাবিক।

সাধারণত নায়িকারা মনে করেন, বিয়ে হয়ে গেলে তাঁদের প্রতি ভক্তদের মোহ কমে যাবে। আপনার উদাহরণ কি বাকিদের আত্মবিশ্বাসের কারণ হবে?

কারিনা: আমি তো কারও উদাহরণ হওয়ার জন্য কিছু করিনি! বিয়ে একটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কমিটমেন্ট। প্রত্যেকের দাম্পত্যজীবন আলাদা। আমি তো এমন কেউ নই, যে আমাকে মডেল করে লোকে তাদের জীবন সাজাবে! আমি একজন আধুনিক ভারতীয় মহিলা। নিজের কাজ নিয়ে আমার বেশ গর্ব রয়েছে। বিবাহিত জীবনের প্রতি প্রবল সম্মানও। সইফও (আলি খান) বোঝে না, আমার কেরিয়ার নিয়ে এত আলোচনা হওয়ার কী আছে! আমি তো সারা জীবন কাজ করে যেতে চাই। পারলে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত!

বলেন কী! ৮০? মুম্বইয়ে তো মুখে বলিরেখা পড়াটাই নাকি অভিশাপ! বয়স্ক চরিত্রদের গুরুত্ব নেই বলে!

কারিনা: আমি তো তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাব! কে বলতে পারে, আমাদের এখানেও ‘ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা’র মতো একটা ছবি হবে কোনওদিন। তখন মেরিল স্ট্রিপের চরিত্রটার জন্য হয়তো পরিচালক আমাকেই নিতে চাইবেন! আমার সবচেয়ে প্রিয় ফিল্ম-চরিত্র কিন্তু মিরান্ডা প্রিস্টলিই (‘ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা’য় মেরিলের

চরিত্রের নাম)!

এত বছরের কেরিয়ারে আপনার সব ছবিই যে মসৃণভাবে উতরে গিয়েছে, সেটা বলা যায় না। কিন্তু বিষয়গত ক্ষেত্রে একটা বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। আপনার কি মনে হয়, সময়ের চেয়ে একটু বেশিই এগিয়েছিলেন…?

কারিনা: হতে পারে। সকলেই দেখি এখন নারীকেন্দ্রিক ছবি করার কথা বলেন। আমি তো কবে থেকে সেটাই করছি। কীভাবে করছি? ওই জাতীয় ফিল্ম অনেকদিন আগে থেকে হচ্ছে বলেই! এবার কে কোন ছবি করবেন, সেটা তো একান্ত তাঁর নিজের ব্যাপার। আমার মায়ের (ববিতা) সময়ের যে অভিনেত্রীরা রয়েছেন, তাঁরাও তো অনেক জোরদার নারী-চরিত্র করেছেন। হেমা মালিনী বা রেখার কথা ভাবুন। ওঁরা কমার্শিয়াল ছবিতেও সফল, হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের জঁরের ছবিতেও। আমিও চাই তাই করতে। সব রকমের চরিত্র করতে। কেরিয়ারের প্রায় শুরু থেকেই নারীকেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয় করে আসছি। আমাকে কেউ বলতে পারবেন না, যে শুধু খানেদের সঙ্গেই কাজ করতে উৎসুক ছিলাম। ডি-গ্ল্যাম চরিত্র করেছি। গ্ল্যামারাস নায়িকা হিসেবে নিজের নামডাকও উপভোগ করি যথেষ্ট!

নিজেকে প্রতিটা ছবির সঙ্গে বদলে ফেলা কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে করেন?

কারিনা: চ্যালেঞ্জিং তো বটেই। যেমন ‘কি অ্যান্ড কা’র সঙ্গে ‘বজরঙ্গি ভাইজান’এর কোনও মিল নেই। যদিও ‘বজরঙ্গি…’তে আমার চরিত্রটা ছোট ছিল। কিন্তু অমন ঐতিহাসিক সাফল্য পাওয়া ছবির অংশ হতে পেরেছিলাম যে, এটাই মনে করি অনেক! আবার ‘কি অ্যান্ড কা’এ আমি আধুনিক কেরিয়ারিস্ট মহিলা। যে আবার উচ্চাকাঙ্ক্ষীও। আমিও উচ্চাকাঙ্ক্ষী…কমার্শিয়াল এবং পারফরম্যান্স ওরিয়েন্টেড ছবি— দু’ধরনেই ব্যালান্স করে চলতে চাই (হাসি)!

একবার বলেছিলেন, বরুণ ধবনের সঙ্গে পরদা-রোম্যান্স করবেন না। অথচ অর্জুন কপূরের সঙ্গে কাজ করলেন। কমবয়সিদের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ হচ্ছেন?

কারিনা: আমি কাজ করি স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী। ‘কি অ্যান্ড কা’এর স্ক্রিপ্টের চাহিদামতো অর্জুনই মানানসই নায়ক হতে পারত। তাছাড়া সহ-অভিনেতা কে, সেটা ভেবে কাজ করি না। ছবির চরিত্রটার সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পেরেছিলাম। অর্জুনের পক্ষেও ছবিটা ভাল, কারণ সাধারণত হিরোরা সিক্স প্যাক দেখানো ছাড়া আর কিছু করার সুযোগ পান না। আমি তো সকলের সঙ্গেই কাজ করতে চাই। তবে সেটা একেবারেই নিজের শর্তে।

আগামী জুনে তো নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে আপনার। ‘উড়তা পঞ্জাব’। মাদক-ইত্যাদির ব্যাপার আছে তাতে। চরিত্রটা কি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে?

কারিনা: ছবির প্রেক্ষাপট অন্য যে কোনও ছবির চেয়ে ভীষণই আলাদা। ‘উড়তা পঞ্জাব’কে ড্রাগ-ড্রামা বলা যায়। আমার চরিত্র একজন ডাক্তারের। ছবিটা খুবই ইনটেন্স। আর ঝুঁকি কোন কাজেই বা নেই!

সম্প্রতি শাবানা আজমি ‘ফেভিকল সে’ (‘দবং টু’) গানটার জন্য আপনাকে কড়া কথা শোনালেন…।

কারিনা: মনে হয় না, ওঁর আমার সঙ্গে কোনও সমস্যা আছে বলে। গানের কথাগুলো নিয়ে ওঁর আপত্তি। এবং কার কোনটাতে আপত্তি হবে কি হবে না, সেটা তাঁর নিজের ব্যাপার। সুতরাং ব্যাপারটাকে অত গুরুত্ব দিচ্ছি না। সলমন খান বা আমি কারও মূল্যবোধে ধাক্কা দিতে চাইনি গানটার মাধ্যমে। তবে এটা ঠিক, একই কাজের জন্য ছেলেদের কিন্তু কেউ বলে না! ‘দিল্লি বেলি’ ছবির ‘ভাগ ভাগ ডি কে বোস’ নিয়ে কারও কোনও আপত্তি তো শুনিনি! ছেলেদের কেন আইটেম সং নিয়ে বলা হয় না, এটা আমি সত্যিই জানি না!.

‘রেঙ্গুন’এ সইফ এবং কঙ্গনা রানাউত একসঙ্গে অভিনয় করছেন। ওঁদের চুম্বন-দৃশ্য থাকলে আপনার অস্বস্তি হবে?

কারিনা: এ রকম কোনও দৃশ্য ওই ছবিতে আছে বলে আমি জানি না। কিন্তু থাকলে সইফকে চুমুটা খেতেই হবে, তাই না! আমার স্বামী হওয়া ছাড়াও ও একজন অভিনেতা।

আপনার করা মুভি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘গোলমাল’ বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের তুলনায় সফল। এবং সবক’টায় আপনি অভিনয়ও করেছেন। ‘গোলমাল ফোর’ কবে আসছে?

কারিনা: রোহিত (শেট্টি, পরিচালক) মনে হয় স্ক্রিপ্ট লিখছে এখন। ‘গোলমাল রিটার্নস’ আর ‘গোলমাল থ্রি’— দুই ছবিতেই আমার চরিত্রটা দারুণ ছিল। আশা করি, পরেরটাও তেমনই হবে (হাসি)।

অম্রুত কৌরের বায়োপিকের কাজটা কি করছেন?

কারিনা: সকলেই বায়োপিক করছেন বলে আমাকেও করতে হবে, এটা মনে করি না। চরিত্রটায় আমাকে বেমানান লাগলে তো চলবে না! ঠিকঠাক চরিত্র না পেলে বাড়িতে ছ’-সাত মাস বসে থাকতেও আমার আপত্তি নেই!

এমন কোনও জঁর আছে, যেটা এখনও করা বাকি!

কারিনা: কোনও দিন অ্যাকশন ছবি করতে চাই না! ‘দ্য ব্রিজেস অফ ম্যাডিসন কাউন্টি’ বা ‘ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা’ বরং আমার পছন্দের গোত্রের সিনেমা।

কখনও টিভি’তে কাজ করবেন?

কারিনা: আয়্যাম নট ইন্টারেস্টেড! প্রচুর টিভি দেখি যদিও!

কী দেখেন?

কারিনা: ‘হাউস অফ কার্ডস’ যেমন। আমার মনে হয়, সাইফ কিন্তু টিভির জন্য ভাল প্যাকেজ হতে পারে!

শাহরুখ খান একবার বলেছিলেন, তিনি টিভির জন্য একটু বেশিই দামি…আপনারও কি তাই মনে হয়?

কারিনা: ঠিক জানি না! দারুণ কোনও কাজ হলে হয়তো ভাবব।

প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোনেরা হলিউডে ডেবিউ করছেন। আপনার কাছে এসেছে নাকি কোনও হলিউডি অফার?

কারিনা: নাহ্‌। আমি হলিউডে যেতে চাইও না। আমাদের ছবি তো পৃথিবীর সব জায়গায় দেখা হয়। হিন্দি ফিল্মের পপুলারিটিও চরম! এতগুলো ভাষায় ডাব করা হয় ছবিগুলো। আর অফার পেলেও হলিউডের ছবি করতে চাইব না। আমি ‘কোয়ান্টিকো’ দেখেছি। প্রিয়ঙ্কা অসামান্য কাজ করেছে! ওই চরিত্রে ওর চেয়ে ভাল কেউ করত বলে মনে হয় না। মূলধারার অভিনেতাদের মধ্যে ও-ই বিনোদনের বিশ্ব মানচিত্রে এই মুহূর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে। ওকে এতদূর পৌঁছতে দেখে আনন্দ না পেয়ে উপায় কী বলুন!

হিন্দি ছাড়া অন্য কোনও ভারতীয় ছবিতে কাজ করবেন?

কারিনা: তার জন্য ভাষাটা বোঝা জরুরি। হিন্দি ছাড়া অন্য ভারতীয় ভাষা জানি না আমি। ফলে এই মুহূর্তে তো তেমন কোনও ছবি নেব না। তবে যদি কখনও করি, আগে ভাষাটা শিখব।

সাইফের সঙ্গে আর ছবি করলেন না কেন?

কারিনা: নো ওয়ান ইজ কামিং আপ উইথ গুড রোল্‌স ফর আস, ইয়া! ‘তশন’ আর ‘কুরবান’ আমার খুব প্রিয় ছবি। তবে ভাল একটা স্ক্রিপ্ট লাগবে তো দু’জনে একসঙ্গে ভাল কিছু করতে হলে। শুধু পরদায় মুখ দেখানোর জন্য কিছু করব না নিশ্চয়ই আমরা!

সইফ তো শেফ’এর চরিত্রে অভিনয় করবেন এরপর। পরামর্শ নিচ্ছেন আপনার থেকে?

কারিনা: আমি রান্না ভালই পারি। কিন্তু গত পাঁচ-ছ’বছর ধরে একেবারেই রাঁধি না। বাড়িতে দারুণ কুক রয়েছে আমাদের। আর সাইফের আমার পরামর্শ দরকার নেই। ও যথেষ্ট ভাল অভিনেতা।

কাপূর পরিবারের ঠিক কার মতো বলুন তো আপনি?

কারিনা: (জোর হাসি) আমার বাবা-মায়ের একটা গ্রেট মিক্স বলা যায় আমায়। কারিশমার সঙ্গেও প্রচুর মিল রয়েছে! আমি মনেপ্রাণে কাপুর খানদানের মেয়ে কিন্তু। আবেগ, চেহারা, কমিক টাইমিং, এনার্জি, বাঁচতে ভালবাসা, খেতে ভালবাসা একজন মানুষ। ভীষণ পজিটিভও। ফলে পরিবারের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু বৈশিষ্ট্য আমার মধ্যে দেখতে পাবেন!