মেইন ম্যেনু

সাঈদ খোকনের অবনমন

দলীয় পদে অবনমন হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের। নবঘোষিত ঢাকা মহানগর উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে তাকে। এর আগে অবিভক্ত মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি।

এ ঘটনায় তার অনুসারীরা হতাশ। তারা অন্তত সহসভাপতি পদে তাকে আশা করেছিলন। তবে সাঈদ খোকন বলছেন, সদস্য পদ পেয়েই তিনি খুশি।

দলের সূত্রে জানা গেছে, কমিটি ঘোষণার আগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য দলের হাইকমান্ডে তদবির করেছিলেন সাঈদ খোকন। গত বছর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের একটি বৈঠকেও এ নিয়ে জোরালো দাবি উঠেছিল। পরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যক্তিদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেয়া হবে বলে সে সময় আশ্বাস দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু গত ১০ এপ্রিল আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও শাহে আলম মুরাদকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে হতাশ সাঈদ খোকন ও তার অনুসারীরা এরপর অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদের আশা করেছিলেন তাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাঈদ খোকনের ঘনিষ্ঠ এমন একজন বলেন, ‘কমিটি ঘোষণার পর তার (মেয়র) সঙ্গে আমার কথা হয়নি। তবে আমরা আশা করেছিলাম তিনি সিনিয়র সহসভাপতি পদ পাবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় আমরা হতাশ।’

নতুন কমিটিতে সদস্যপদে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমি পদ পাওয়ায় খুশি। আমি বর্তমানে মেয়রের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছি। এর বাইরেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলীয় পদ দিয়েছেন। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’

দলীয় পদে সাঈদ খোকনের এই অবনমনের পেছনে প্রধান একটি কারণ হলো ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকারের জরুরি অবস্থার সময় ‘কিংস পার্টি’ পিডিপিতে তার যোগ দেয়া। পরে অবশ্য তিনি দাবি করেন, চাপে পড়ে তা করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

এরপর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে সাঈদ খোকনকে বহিষ্কার করা হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বেশ কিছুদিন নীরব ছিলেন তিনি। পরে আবার দলের রাজনীতিতে সক্রিয় হলে দলীয় বিভিন্ন সভায় তার আগের পদবি অনুযায়ী প্রটোকল দেয়া হয় তাকে। তবে অবিভক্ত মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকায় আর নাম ছিল না তার। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের নাম ছিল সেখানে।