মেইন ম্যেনু

একাত্তরের মানবতা বিরোধী অভিযোগ

সাকা’র রায়ের দিকে তাকিয়ে চট্টগ্রামবাসি

একাত্তরের মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধূরীর সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট জনেরা। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায় দেবেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

গত ৭ জুলাই যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আপিল শুনানি শেষ হওয়ায় ২৯ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। গত ১৬ জুন শুরু হয়ে ১৩ কার্যদিবসে এ আপিল শুনানি শেষ হয়। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হবে ২৯ জুলাই বুধবার।

যুদ্ধাপরাধ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন আর্ন্তজাতিক মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনাল-১। তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ২৩টি অভিযোগের মধ্যে একাত্তরে হত্যা ও গণহত্যাসহ ৯টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যার মধ্যে চারটি অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।

সাকা’র সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বলবৎ রাখার দাবি জানিয়ে ইতোমধ্যে নানান কর্মসূচী পালন করছেন গনজাগরন মঞ্চ।

চট্টগ্রাম থেকে প্রথম যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবি তুলেছিলেন জানিয়ে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধূরী। তিনি বলেন, সাকা স্মীকৃত যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরে সে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো এবং যারা দেশ ও জাতির সাথে বেইমানী করে তাদের পরিণতি ভয়াবহ। যুদ্ধাপরাধের মতো জঘণ্য অপরাধ করে কেউ পার পেতে পারবেনা জানিয়ে কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্ব্বো” শাস্তি— নিশ্চিত করতে না পারলে শহিদদের প্রতি আমাদের দায় থেকে যাবে।

২০১০ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে সাকা চৌধুরীকে হরতালে গাড়ি ভাংচুরসহ আরো কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয় ২০১১ সালের ১৭ই জানুয়ারি৷ তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনাল ১-এ তার বিরুদ্ধে মোট ২৩টি অভিযোগের বিচার শুরু হয়৷ এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৪১ জন সাক্ষী দেন৷ আর সাকা চৌধুরীর পক্ষে সাক্ষী দেন মোট চারজন। সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট ২৩টি অভিযোগ ছিল৷

যে চারটি হত্যা-গণহত্যার দায়ে সাকাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো ৩ নম্বর (অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা), ৫ নম্বর (রাউজানের সুলতানপুর গ্রামে তিনজনকে গণহত্যা), ৬ নম্বর (রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় ৫০-৫৫ জনকে গণহত্যা) এবং ৮ নম্বর (চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফফর আহম্মদ ও তার ছেলে শেখ আলমগীরকে হত্যা) অভিযোগে। অন্যদিকে ২ নম্বর (রাউজানের গহিরা গ্রামের হিন্দুপাড়ায় গণহত্যা), ৪ নম্বর (জগৎমল্লপাড়ায় ৩২ জনকে গণহত্যা) এবং ৭ নম্বর অভিযোগে (রাউজানের সতীশ চন্দ্র পালিতকে হত্যা) আনা তিন হত্যা-গণহত্যায় সাকা চৌধুরীকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
১৭ এবং ১৮ নম্বর অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে আরও পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যে দু’টি অভিযোগে যথাক্রমে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, সিরাজ ও ওয়াহেদ ওরফে ঝুনু পাগলাকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং চান্দগাঁওয়ের সালেহউদ্দিনকে অপহরণ করে সাকা চৌধুরীর পারিবারিক বাসভবন গুডসহিলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।