মেইন ম্যেনু

সাকা-মুজাহিদের রায় ঠেকাও, পাকিস্তানকে জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় ঠেকাতে পাকিস্তানকে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াত-ই-ইসলামের আমির সিরাজুল হক।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড সর্বোচ্চ আদালত বহাল রাখার প্রতিক্রিয়ার বুধবার দেয়া এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান পাকিস্তানি আমির।

জামায়াতের পাকিস্তান আমির বলেন, “বাংলাদেশ সরকার তার রাজনৈতিক মতবিরোধীদের বিচারিক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।”

বিবৃতিতে ফাঁসির রায়ের কড়া সমালোচনা করে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টকে ‘ক্যাঙ্গারু’ আদালত এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ‘অবিচার’ বলে অভিহিত করেন পাকিস্তান জামায়াতের আমির। তিনি এই আদালতের বিচার বন্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিশেষ করে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান।

জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনে’ পাকিস্তান সরকারকে নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করলে হবে না। মুসলিম বিশ্বসহ সারা বিশ্বকে সোচ্চার করতে উদ্যোগী হতে হবে পাকিস্তানকে।

মুজাহিদ ও সালাউদ্দিনকে ‘নিষ্পাপ’ আখ্যায়িত করে পাকিস্তানি আমির দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান তারা যেন এই দুই নেতার ফাঁসি কার্যকর রোধে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়।

ইসলামাবাদকে একটি সমঝোতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিরাজুল হক দাবি করেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সময় সংঘটিত কোনো অপরাধের কোনো বিচার হবে না বলে একমত হয়েছিল পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ।

সিরাজুল হক আরও দাবি করেন, জামায়াত নেতা মুজাহিদ কোনো অপরাধী নন। “সেই সময়ে আলী আহসান মুজাহিদ একজন পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে ভারতীয়দের প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ কিছু যুদ্ধ-আগ্রাসীর হাত থেকে দেশকে রক্ষার চেষ্টা করেছিল। সেই দিক দিয়ে চিন্তা করলে তো মুজাহিদ অপরাধীই নয়। হাসিনা ওয়াজেদ সরকার মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণও করতে পারেনি।”

সিরাজুল হক বলেন, “আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে যে সময়কার হত্যার অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, ওই সময়ে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন, এর তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা পাকিস্তানের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন উল্লেখ করে পাকিস্তানি এই নেতা বলেন, “এখনো তারা সেই দেশের সৃষ্টিকে ভুলে গিয়ে পাকিস্তানের মতাদর্শ ধারণ করে চলছে।”